খুঁজুন
, ,

স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া সময়োপযোগী নেতা ছিলেন- আব্দুল্লাহ আল নোমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 June, 2023, 1:17 pm
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া সময়োপযোগী নেতা ছিলেন- আব্দুল্লাহ আল নোমান

 

অদ্য সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪২ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এএম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইচ চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, তিনি একজন রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক- এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশ স্বাধীন না হলে মার্শাল ’ল আইনে তার বিচার হতো। এমনকি ফাঁসির কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতে হতো। এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দিশেহারা জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছেন। ফিরিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন ভূখন্ডকে। আজকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এই মহান নেতাকে। উনার আদর্শ বুকে লালিত করে দেশের কল্যাণে কাজ করে যেতে সবাইকে একত্রীভূত হতে হবে।

গণতন্ত্র মুক্তি ও স্বাধীনতার রক্ষা ও ভোটাধিকার প্রয়োগের যে আন্দোলন চলছে তা বেগবান করে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনতে হবে। তার সাথে সাথে আজকে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশী বিদেশে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি আজ দেশান্তর হয়ে আছেন। আমরা সকলে উনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা, ভোটাধিকার, মানবাধিকার, বিদেশে যে স্যাংশেন ভিসা নীতি জারি করেছে গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক হলেও তা অত্যন্ত লজ্জাকর। কারণ আমরা স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও নিজেদের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হয় এবং বিদেশের মানুষ তার সহায়ক হিসেবে এগিয়ে আসে।যা আওয়ামী লীগ সরকারের হচ্ছে – এতে কোন সন্দেহ নেই।

বিশেষ অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বুকে ধারণ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাবো। বর্তমান অবৈধ অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কারণে মানুষ দুরাবস্থার দিনযাপন করছে, শ্রমিকরা বেকার হয়ে যাচ্ছেন। দেশে একটি দুর্ভিক্ষের আলামত সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি স্বাধারণ মানুষ মেহনতি শ্রমজীবী মানুষ না খেয়ে বা অর্ধাহারে দিনযাপন করছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতন্ত্র পুর্ণদ্ধারের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে স্বৈরচারী সরকারের বিরুদ্ধে একসাথে রাজপথে নেমে আসতে হবে। যা ইতিমধ্যে লক্ষ করছি- সরকারী দলের অপকর্মকারীরা পালাতে পথ খুঁজছে। আশা করি অচিরেই দুর্নীতি সরকার পালিয়ে যাবে। বিশেষ অতিথি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ জিয়ার মতো বাংলাদেশে এ পর্যন্ত দ্বিতীয় কোন নেতা দেশের অভ্যন্তরীন ও বৈশ্বিক রিজার্ভ বাড়াতে ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দেশের কল্যাণে কোন অবদান রাখতে পারেননি। যার উপর ভর করে আজকে দেশ দাঁড়িয়ে আছে। গণতান্ত্রিক চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে বানচাল করার জন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আরেকটি অপকৌশল শুরু করেছে। এ মুহূর্তে দেশের মানুষ জেগে উঠেছে স্বৈরাচার হাসিনার বিরুদ্ধে। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে পতন করবে এ সরকারকে। আর কোন অপকৌশল কাজে আসবে না। প্রধান বক্তা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শ্রমিক দলের কেন্দ্রী সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শ্রমজীবি মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।যার কারণে বাংলাদেশ প্রতিটি শ্রমিক প্রতিটি মুহুর্তে তাকে স্মরণ করে। আজকে আওয়ামী দু:শাসক হাসিনার সরকার শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অত্যাবশ্যক কালো আইন তৈরি করছে। যার কারণে শ্রমিকেরা আর কোন দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করতে পারবে না। এই কালো আইনের বিরুদ্ধে সকল শ্রমিকদেরকে ঐক্যবদ্ধ গণ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। যে আন্দোলনে এই সরকার এই কালো আইন করা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আলম, এম এ সবুর, এস কে খোদা তোতন, আনোয়ার হোসেন লিপু। শ্রমিকবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক স. ম জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, শাহনেওয়াজ চৌধুরী, মোতালেব চৌধুরী, মো. নজরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, আব্দুর রাজ্জাক, মো. আজম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ হারুন, মো. নাছির উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান মজুমদার, প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট ইকবাল হোসেন, যুব বিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান বিপ্লব, মহিলা সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদৌস বিথী, আব্দুল হান্নান ভূইয়া, কবির হোসেন, দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মহসিন খান তরুন, আজিজুদ্দিন মিন্টু, মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, মোহাম্মদ দেলোয়ার, আতিকুর রহমান, নুর আলম সুজন, মোহাম্মদ আবুহেনা, আব্দুল মন্নান, মো: রফিক, মো. সিদ্দিক, আব্দুল খালেক, মোঃ রাসেল, ছাইদুল হক ছাদু, আব্দুল হান্নান প্রমুখ। সভা শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন শ্রমিক নেতা মাওলানা রেজাউল হক মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করে আরাফাত রহমান কোকো ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারা মুক্তি ও তারেক রহমানের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে মুসলিম উম্মার জন্য দোয়া করেন।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/