বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপের সম্ভাবনা; ঘূর্ণিঝড় হলে নাম ‘অর্ণব’
বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়েছে। এর প্রভাবে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ওই এলাকায় নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি)।
আইএমডির ১৮ সেপ্টেম্বরের উপকূলীয় আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর থাইল্যান্ডের ওপর অবস্থান করা একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্ত পশ্চিম দিকে সরে ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে উত্তর আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। এর প্রভাবে একই অঞ্চলে নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপটি তৈরি হলে পরবর্তী তিন থেকে চার দিনে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে পারে। এরপর এটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দক্ষিণ ওডিশা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যেতে পারে। তবে আবহাওয়া ব্যবস্থাটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
এদিকে, ১৮ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে উত্তর ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলে কোনো ঝড়ের সতর্কতা বা জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা জারি করা হয়নি। ওই অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আইএমডি।
আবহাওয়া ব্যবস্থাটি শক্তিশালী হলে এর গতিপথ, তীব্রতা ও সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। তাই বর্তমান অবস্থায় এটিকে সম্ভাব্য নিম্নচাপ হিসেবে দেখাই যথাযথ।
ঘূর্ণিঝড় হলে নাম ‘অর্ণব’
ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ তৈরি হলেই কোনো আবহাওয়া ব্যবস্থাকে ঘূর্ণিঝড় বলা হয় না। নির্দিষ্ট তীব্রতা অর্জনের পর উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণের দায়িত্ব ভারতের আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া কেন্দ্র (RSMC New Delhi)-এর।
WMO/ESCAP-এর নির্ধারিত তালিকায় বাংলাদেশের দেওয়া নামগুলোর একটি হলো ‘Arnab’ (অর্ণব)। তালিকা অনুযায়ী নামগুলো ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং নির্ধারিত মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে নাম প্রয়োগ করা হয়।
অতএব, বর্তমানে তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত বা সম্ভাব্য নিম্নচাপকে ‘অর্ণব’ বলা ঠিক নয়। এটি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জন করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তখন নির্ধারিত নাম ‘অর্ণব’ ব্যবহৃত হতে পারে।
ইতি/

আপনার মতামত লিখুন