খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে বিএনপির লিফলেট বিতরণকালে ডা. শাহাদাত হোসেন

জণগণ নিরব দর্শকের মতো সরকারের নির্বাচনী সার্কাস দেখছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 3 January, 2024, 12:46 pm
জণগণ নিরব দর্শকের মতো সরকারের নির্বাচনী সার্কাস দেখছে

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আগামী ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না। এটি একটি ভাগ বাঁটোয়ারার তামাশার নির্বাচন। একজনের মালিকানায় নৌকা, লাঙ্গল, ট্রাক ও ঈগল সব একই কোম্পানির পণ্য। এই নির্বাচন দেশের মালিক জনগণের নির্বাচন নয়। জনগণকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি ডামি নির্বাচন করে সরকার বিদেশিদের দেখাতে চায়, দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হচ্ছে। অথচ নির্বাচন নিয়ে জনগণের কোনো আগ্রহ নেই। জণগণ নিরব দর্শকের মতো সরকারের নির্বাচনী সার্কাস দেখছে। তাই এই ডামি নির্বাচন বর্জন করুন। ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে এই অবৈধ নির্বাচনকে না বলুন।

তিনি বুধবার (৩ জানুয়ারী) দুপুরে চকবাজার কাপাসগোলা ও ধনির পুল এলাকায় সরকার পতনের একদফা দাবি ও ৭ জানুয়ারীর নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের সমর্থনে জনমত তৈরির লক্ষ্যে চকবাজার থানা বিএনপির গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণকালে এসব কথা বলেন।

তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে আসন ভাগাভাগির একতরফা ডামি নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানান।

এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডামি নির্বাচন ঘিরে দেশে এক ভয়ংকর অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদী চেতনা লালন করে, তাই বিএনপিসহ বিরোধী দলকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে কারান্তরীণ করে একতরফা নির্বাচনের আয়োজন করছে। একদলীয় সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই সরকার একতরফা তামাশার নির্বাচন করছে।

এসময় আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সরকার আইন শৃংখলাবাহিনী ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের লোকদের দিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। তাই জনগণকে অনুরোধ করছি, আপনারা ৭ জানুয়ারি তামাশার নির্বাচনে অংশ নেবেন না। দেশে গণবিস্ফোরণ হবে। জনগণ এই নীলনকশার নির্বাচন সফল হতে দেবে না।

এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আবদুল মান্নান, সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, মহানগর বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ডা. এস এম সারোয়ার আলম, দিদারুল আলম, চকবাজার থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর হোসাইন, বিএনপি নেতা মো. মহসিন, বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রাসেল পারভেজ সুজন, চকবাজার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বাবলু, বাগমনিরাম ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ফয়েজ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা শেখ রাসেল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আলম শিপু, কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. সেকান্দর, ইকবাল হোসেন জিসান, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সালাউদ্দীন কাদের আসাদ, আরিফুর রহমান মিটু, মহানগর যুবদলের সহ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু, চকবাজার থানা যুবদলের সদস্য সচিব মো. সরোয়ার, ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান লিটন, কৃষক দলের আহবায়ক সিহাব খালেদ মুন্না।

এছাড়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নাজিমুর রহমান, আহবায়ক কমিটির সদস্য এরশাদ উল্লাহ, নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, মহানগর বিএনপ নেতা খোরশেদ আলম, সিহাব উদ্দিন মোবিন ও জাফর আহমদের নেতৃত্বে ২নং গেইট শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করা হয়। তাছাড়া উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, জেলা বিএনপি নেতা আজমত আলী বাহাদুর, গাজী হানিফ, মোশারফ হোসেন আকবর ভূইয়া ও এম এ হালিমের নেতৃত্বে প্রবর্তক ও মেডিকেল এলাকায়, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন শাহীন ও আবুল কালামের নেতৃত্বে ফটিকছড়ি পৌর সদর এলাকায়, মহানগর বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক আজাদ বাঙালীর নেতৃত্বে হালিশহর আই বল্ক এলাকায়, মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, যুগ্ম সম্পাদক জমির উদ্দিন নাহিদ, জহিরুল হক টুটুল, সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই এর নেতৃত্বে খুলশী ওয়ার্লেস মোড়, পাহাড়তলী কলেজ ও সেগুন বাগান এলাকায়, মহানগর যুবদলের সি. সহ সভাপতি‌ ইকবাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান জুয়েল, সহ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাবু, সাইদুল হক সিকদার, থানা যুবদলের সি. যুগ্ম আহবায়ক মনজুর আলম মঞ্জুর নেতৃত্বে আতুরার ডিপো এলাকায়, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি ফজলুল হক সুমন, মিয়া মো. হারুন, সহ সম্পাদক আরিফ হোসেন, পাহাড়তলী থানা যুবদলের সদস্য সচিব শওকত খাঁন রাজু, বন্দর থানা যুবদলের সি. যুগ্ম আহবায়ক মো. ইয়াছিন ও ডবলমুরিং সি. যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল আলম রুবেলের নেতৃত্বে মধ্যম সরাইপাড়া, আশরাফ আলী রোড এলাকায়, বন্দর থানা যুবদলের উদ্যোগে উত্তর মধ্যম হালিশহর লিংক রোডে এলাকায়, কোতোয়ালী থানা যুবদলের আহবায়ক নুর হোসেন নুরুর খাতুনগঞ্জ এলাকায়, মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আসিফ চৌধুরী লিমন, পাঁচলাইশ থানা ছাত্রদলের আহবায়ক শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ ও হালিশহর থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামিউল কবির সিয়ামের নেতৃত্বে শোলক বহর এলাকায়, কোতোয়ালী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এন মোহাম্মদ রিমন ও মহানগর যুব শ্রমিক দলের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ও চান্দগাঁও থানা ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুর রহমান আলফাজের নেতৃত্বে মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করা হয়।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/