খুঁজুন
, ,

ফিলিস্তিন ইস্যুতে জেগে উঠছে বিশ্ব?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 18 November, 2023, 1:09 pm
ফিলিস্তিন ইস্যুতে জেগে উঠছে বিশ্ব?

সাধারণভাবে বলা হয়, দুঃখের পর সুখ আসে। অশান্তির পর শান্তি আসে। ফিলিস্তিনি জনগণ বিগত ৭৫ বছর সেই শান্তির মুখ দেখেনি। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক সমরাস্ত্র ও সুদক্ষ সেনাবাহিনী রয়েছে ইসরাইলের। সেই সেনাবাহিনীর বিপক্ষে ফিলিস্তিনিরা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে ৭৫ বছর ধরে লড়াই করে চলেছে। তাদের মাতৃভূমি রক্ষার জন্য লড়াই করছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত। বিগত ৭৫ বছরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূমি দখল করতে করতে তাদের শুধু গাজা ও পশ্চিম তীর এ দুটি ভূখণ্ডটুকুই অবশিষ্ট আছে, জেরুসালেমসহ বাকি পুরো অঞ্চল ইসরাইল ইতোমধ্যেই দখল করে নিয়েছে।

উনিশ শতকের প্রথমদিকে যখন ইহুদি দখলদারত্ব শুরু হয়নি তখন এ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ছিল মুসলিম, আর এক-তৃতীয়াংশ ইহুদি। তখন তেমন কোনো যুদ্ধ তাদের মাঝে হয়নি। সমস্যা তৈরি হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটেনের প্রয়োজনে দুর্লভ বোমা তৈরির উপকরণ ‘কৃত্রিম ফসফরাস’ তৈরি করতে সক্ষম হন বিজ্ঞানী ড. হেইস বাইজম্যান। তিনি ধর্মে ছিলেন ইহুদি। এ আবিষ্কারের ফলে আনন্দিত হয়ে তখনকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলেন তিনি কী পুরস্কার চান। ড. হেইমেন কোনো অর্থকড়ি চাননি। চেয়েছিলেন তার স্বজাতির (ইহুদি) জন্য একটুকরো ভূমি। সেই ভূমি দুনিয়ার আর কোথাও নয়, দিতে হবে ফিলিস্তিনে। ফলে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডটি ইহুদিদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয় গ্রেট ব্রিটেন। ১৯২০ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জে (লিগ অফ নেশন্স) এক ঘোষণার মাধ্যমে ব্রিটিশরা ম্যান্ডেটরি প্যালেস্টাইন ঘোষণা করে। এ ঘোষণার পর থেকে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকারে প্রায় ৩০ বছর দেশটি দখল করে নিজেদের অধীনে রাখে ব্রিটিশরা। এ ব্রিটিশ কর্তৃত্ব চলাকালে দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে দলে দলে ইহুদিরা ফিলিস্তিনে জড়ো হতে থাকে। সে অঞ্চলে বাড়তে থাকে তাদের সংখ্যা। এরপর ১৯৪৮ সালের ১২ মে রাত ১২টা ১ মিনিটে ইসরাইল রাষ্ট্র ঘোষণা করে ইহুদি জায়নবাদীরা। মাত্র ১০ মিনিটের ভেতর ইসরাইলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এরপর স্বীকৃতি দেয় ব্রিটেন এবং তৎকালীন সময়ের আরেক পরাক্রমশালী দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন। আমেরিকা ও ব্রিটেনের সহযোগিতা ও আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ইহুদিরা নিজেদের সেনাবাহিনী গঠন করে। মুসলিম ফিলিস্তিনিদের হত্যা ও অত্যাচার করে তাদের ভূমি দখল করে ইসরাইল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করে। অবৈধ দখলদারত্ব এবং নিরীহ ফিলিস্তিনিদের অত্যাচার করে বস্তুচ্যুত করার ফলে সে অঞ্চলে মুসলমান ও ইহুদিদের মাঝে অশান্তি তৈরি হয়। যে অশান্তির আগুন এখনো জ্বলছে। ছড়িয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব বিশ্বে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। নিজেদের ভূখণ্ড শত্রুমুক্ত করেছে। সে সময় আমাদের এক কোটি মানুষ পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে ট্রেনিং ক্যাম্প করে, প্রস্তুতি নিয়ে, আবার শত্রুর মোকাবিলা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিন্তু গাজা ভূখণ্ডের চারপাশে ইসরাইলের বর্ডার, অন্য পাশে সাগর। শুধু একদিকে মিসরের বর্ডার আছে। সেই বর্ডার তারা বন্ধ করে দিয়েছে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পরপর। ফলে গাজার সাধারণ জনগণ পালিয়ে কোথাও আশ্রয় নেবে, সে পথও তাদের বন্ধ হয়ে আছে। গাজাকে মনে করা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত কারাগার। প্রকৃতপক্ষে, গাজাবাসী কারাগারের চেয়ে বেশি নির্যাতন আর জুলুমের শিকার হচ্ছে। কয়েদিরা তাদের মেয়াদ শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু গাজাবাসীর কপালে সেই মুক্তি কবে আসবে তার কোনো মেয়াদ নেই।

শত হতাশার মাঝেও আশার কথা হলো, ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুদ্ধ বন্ধে সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষের যে সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে, তা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। মানুষ জেগে উঠেছে, যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে দেশে দেশে বিক্ষোভ চলছে। গোটা দুনিয়ার মানুষ শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে। বিশ্ববাসী বুঝতে পারছে, ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে যে হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতা চালানো হয়েছে তাতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য এখন একান্ত প্রয়োজন। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে ইঙ্গ-মার্কিন জোটের ভেটো প্রদানের ফলে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পাশ হচ্ছে না, কার্যকর হচ্ছে না। অবশ্য ঘরে-বাইরে চাপের কারণে বাইডেন প্রশাসন কিছুটা নমনীয় হয়েছে। তবে একটা কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, আরব নেতারা যদি নিজ নিজ দেশের জনগণের সঙ্গে একতাবদ্ধ হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ হন-তাহলেই ফিলিস্তিন জনগণের মুক্তির একটি উপায় বের হয়। ইতোমধ্যে ক্রাউন প্রিন্স বা সৌদি বাদশাহ এ ইস্যুতে রাজধানী রিয়াদে শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। এখন প্রশ্ন হলো, দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আরব নেতারা ইসরাইলকে নিবৃত করতে সক্ষম হবেন কিনা? আরব নেতারা সদিচ্ছাসহ সেটা চাইবেন কিনা? তারা আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বের নেতাদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারবেন কিনা? যুদ্ধ বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর একটি উক্তি এখানে মনে পড়ছে। বঙ্গবন্ধু জুলিও কুরি পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘বিশ্বশান্তি আমার জীবন দর্শনের মূলনীতি। নিপীড়িত, নির্যাতিত, শোষিত, শান্তি ও স্বাধীনতাকামী মানুষ যে কোনো স্থানেই হোক না কেন, আমি তাদের সঙ্গে আছি।’ তিনি অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সেই অর্থ দুনিয়ার দুঃখী মানুষের কল্যাণে ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরব নেতাদেরও সমস্বরে বলতে হবে, ‘ইসরাইল, রক্তের হোলিখেলা বন্ধ করো। করতে হবে।’

কিছুদিন আগেই পত্রিকায় পড়ছিলাম, ২০১৪ সালে ফিলিস্তিন নাগরিকদের নির্বিচার হত্যার পর আল জাজিরার একজন সাংবাদিকের হাতে কিছু ছবি এসেছিল। ছবিগুলো এঁকেছিল ইসরাইলের সীমান্তবর্তী খান ইউনিস এলাকার খুজা শহরের শিশুরা। ছবিগুলোর দিকে প্রথমে তাকালে সেগুলোকে বাচ্চাদের আঁকা সাধারণ সুন্দর ছবিই মনে হবে। বিভিন্ন রঙের বাড়ি, বাড়ির পাশে ঘাসে ভরা মাঠ, আকাশে মেঘ, সূর্য। কিন্তু ছবিগুলোর দিকে একটু খেয়াল করেই সেই সাংবাদিক চমকে উঠলেন। সেসব মেঘ, সূর্য, বাড়িঘরের পাশাপাশি প্রতিটি ছবিতে মিসাইল, ট্যাংক, বুলডোজার ও যুদ্ধবিমানের মতো যুদ্ধের সারঞ্জাম আছে। আর সেই যুদ্ধ সরঞ্জামের লক্ষ্য সেই বাড়িঘর। সেই এলাকার একজন শিশু কতটা মানসিক আতঙ্ক, যন্ত্রণা এবং ট্রমা নিয়ে বেড়ে ওঠে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ ওই ছবিগুলো। হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে যে ছবিগুলো সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে, তাতে আমাদেরও কি সেই মানসিক আতঙ্ক ও যন্ত্রণায় জড়িয়ে ফেলছে না? এমন দিন কি সত্যিই কোনোদিন আসবে, যেদিন ফিলিস্তিনি শিশুর ড্রয়িং খাতায় গাছপালা, পশু-পাখির মাঝে মিসাইল, বোমা বা ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি থাকবে না। বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা কি কখনো পূরণ হবে?

তৌহিদুল হাসান নিটোল : সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/