খুঁজুন
, ,

পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় জামাতুল আনসার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 6 June, 2023, 11:59 am
পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টায় জামাতুল আনসার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা, অভিযানের কারণে পাহাড় ছেড়ে সমতলে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া। ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর বনাঞ্চলে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে আসে।

গোয়েন্দা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সোমবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে রাকিবসহ তিন সদস্যকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ অর্থসহ গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‍্যাব বলছে, রাকিব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অন্যতম শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান। তিনি রাজধানীর মুগদা এলাকায় থাকাকালীন হিজামা সেন্টারের আড়ালে সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ঢাকার সকল শূরা কমিটির মিটিং তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। দেশ ও দেশের বাহির হতে সংগঠনের জন্য সংগৃহীত অর্থ জমা থাকতো তার কাছে। সংগঠনের অর্থায়নে মুন্সিগঞ্জে গবাদি পশুর খামার স্থাপন করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে, নতুন এ জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব সংগঠনের কয়েকজন সদস্যসহ গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দিকে যাচ্ছে।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে র‌্যাব-১ ও ৭ এর সমন্বিত দল গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে। একটি সিএনজি হতে সংগঠনের শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব (৩৪), জাকারিয়া হোসাইন (২৯) ও আহাদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে সিফাত ওরফে মামিদকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পালাতে সক্ষম হয় কিছু সদস্য। উদ্ধার করা হয় ১টি বিদেশি পিস্তল ও নগদ ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন উগ্রবাদী লিফলেট।

কমান্ডার মঈন বলেন, গ্রেপ্তার মোশারফ হোসেন ওরফে রাকিব ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র অন্যতম শূরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান। তিনি ২০১৫ সালে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থানকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ এক জঙ্গির মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০১৬ সালে দেশে ফিরে তিনি আনসার আল ইসলামে যোগদান করেন এবং পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন।

জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র প্রতিষ্ঠাকালীন হতে সে সংগঠনের অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং সমতলের যাবতীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করতেন রাকিব। আনসার আল ইসলাম থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তার নিকট জমা ছিল।

ইতোপূর্বে গ্রেপ্তার সংগঠনের শূরা সদস্য মায়মুনসহ অন্যান্যরা দেশ ও দেশের বাহির হতে সংগঠনের জন্য সংগৃহীত অর্থও তার নিকট জমা থাকত। মুন্সিগঞ্জে গবাদি পশুর খামার স্থাপন করে এবং তথাকথিত হিজরতকৃত অধিকাংশ সদস্য তার খামারে বিভিন্ন সময়ে অবস্থান করতেন এবং তাদের শারীরিক কসরত ও তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করতেন।

সংগঠনের আমির মাহমুদের নির্দেশনায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, অস্ত্র ও রসদ ক্রয়সহ সংগঠনের অন্যান্য কার্যক্রমের জন্য অর্থ সরবরাহ করতেন এবং শুকনা খাবারসহ পাহাড়ে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় করে পার্বত্য প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রেরণ করতেন। এছাড়াও স্বেচ্ছায় নিরুদ্ধেশ সদস্যদের পাহাড়ে প্রেরণের সামগ্রিক কার্যক্রম সে তত্ত্বাবধান করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ পরিচালনা ও সাংগঠনিক কাজে পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ শিবিরে গিয়েছেন।

পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে সংগঠনের আমির মাহমুদের নির্দেশনায় তিনি সমতলের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। আত্মগোপনে থেকে তিনি সংগঠনের অন্যান্য আত্মগোপনকৃত সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রেখে সংগঠনের সদস্যদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

ইতোপূর্বে আনসার আল ইসলামের সদস্য থাকায় সংগঠনের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন তিনি। পাহাড় ছেড়ে সমতলে আসার সময় তার কাছে ছিল ২০ লাখের বেশি টাকা। প্রায় ৭ লাখের বেশি টাকা তিনি খরচও করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মঈন বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন এই সংগঠনটি তাদের পরিকল্পনা, টার্গেট কিলিং বা নাশকতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তারা ভিডিও তৈরি করছিল, সেটিও শেষ করতে পারেনি। তবে গ্রেপ্তার অপর দুই সদস্যকে নিয়ে গাজীপুর হয়ে টাঙ্গাইলের মধুপুরের জঙ্গল এলাকায় অবস্থান করে রাকিবের সমন্বয়ে সংগঠনের আত্মগোপনকৃত অন্যান্য সদস্যদের একত্রিত করে আমিরের নেতৃত্বে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা চলছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার কথা বলে ঘর ছেড়েছিল জাকারিয়া

গ্রেপ্তার জাকারিয়া সম্পর্কে র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, ২০০৮ সালে স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করে ফরিদপুরে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন তিনি। ২০২১ সালে সংগঠনের শুরা সদস্য ও অর্থ শাখার প্রধান রাকিবের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনে যোগদান করেন। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে যাচ্ছেন এমন কথা পরিবারকে জানিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন জাকারিয়া।

২০২২ সালের প্রথম দিকে রাকিবের মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি ও বাকলাইপাড়া হয়ে কেটিসিতে যায় জাকারিয়া। তিনি পাহাড়ে অস্ত্র চালনাসহ বিভিন্ন ধরনের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছেড়ে সমতলে এসে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেন। আমির মাহমুদের নির্দেশে রাকিবের সঙ্গে সংগঠনের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনকৃত সদস্যদের একত্রিত করার জন্য টাঙ্গাইলের মধুপুরের জঙ্গল এলাকায় গেলে রাজেন্দ্রপুর এলাকা হতে র‌্যাব গ্রেপ্তার হন তিনি।

আত্মীয়ের বাসা বেড়াতে গিয়ে উদ্বুদ্ধ, কথিত হিজরতে আমীরের সাহচর্যে আহাদুল

গ্রেপ্তার আহাদুল কুমিল্লার একটি কলেজে অনার্স ৪র্থ সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। তিনি ২০১৮ সালে তার এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়ে সংগঠনের আমির মাহমুদের সাথে তার পরিচয় হয়। সংগঠনের আমির মাহমুদের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যুক্ত হন। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তথাকথিত হিজরতের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে প্রায় দুই মাস আমির মাহমুদের বাসায় অবস্থান করেন এবং আমিরের ব্যক্তিগত সহযোগীর ভূমিকা পালন করেন।

পরে মাহমুদের মাধ্যমে বান্দরবানের থানচি হয়ে কেটিসিতে গিয়ে অস্ত্র চালনা, বোমা তৈরিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হলে সে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ত্যাগ করে সমতলে আসে এবং সমতলের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে।

মসজিদ-মাদ্রাসা এতিমখানার কথা বলে সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহ

এ বিষয়ে কমান্ডার মঈন বলেন, নতুন এ সংগঠনটিকে আত্মপ্রকাশে মূল ভূমিকা পালন করে আনসার আল ইসলাম। তারাই প্রথম অর্থের জোগান দেয়। দাওয়াতি শাখার প্রধান মায়মুনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আমরা তথ্য পাই যে, ইউরোপের একটি দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান পেয়েছে সংগঠনটি। তা প্রায় ৫০ লাখের অধিক। বিভিন্ন সময় যোগাযোগের মাধ্যমে মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানাসহ নানা খাতের কথা বলে এই অর্থ সংগ্রহ করে নতুন এ জঙ্গি সংগঠন। সংগঠনটির ডোনার তিন শ্রেণির। ক-শ্রেণির ডোনাররা ১০ থেকে লাখ টাকা দিতেন।

খ-শ্রেণিররা ৩ থেকে-১০ হাজার এবং ৩ হাজার পর্যন্ত অর্থদাতারা গ-ক্যাটাগরির। অর্থ শাখার প্রধান রাকিব এই টাকা কখনো মোবাইল ব্যাংকিং কখনো হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছেন পাহাড়সহ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকা সদস্যদের মাঝে। এর বাইরে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কেএনএফকে তারা মাসে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা দিত।

পাহাড় ছেড়ে সমতল কেন টার্গেট করল জামাতুল আনসার? জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতির জন্য তারা পাহাড়ে আশ্রয় নেন, সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু র‍্যাবসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানের কারণে পাহাড়কে আর নিরাপদ মনে করেননি। ভেস্তে যায় তাদের হামলার প্রস্তুতি পরিকল্পনাও। নতুন করে সংঘটিত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারা ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে পাহাড় ছেড়ে সমতলে চলে আসে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যাওয়ার একটি তথ্য আমরা পেয়েছিম আত্মগোপন সহজ মনে করেই হয়ত কয়েকটি গ্রুপ গাজীপুরে বনাঞ্চলকে বেছে নিয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন।

নির্বাচন আসলেই জঙ্গিবাদী তৎপরতা বক উগ্রবাদি অস্থিরতা তৈরি হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কোনো গোষ্ঠী পেছন থেকে মদদ দিলেও দিতে পারে। বিদেশের কাছে অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যও কোনো গোষ্ঠীর থাকতেও পারে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। এ ধরনের কোনো তথ্য যদি আমরা পাই তাহলে আমরা জানাব।

সংগঠনের আমির মাহমুদের অবস্থান সম্পর্কে র‍্যাব কোনো তথ্য পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, এর আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদসহ এই সংগঠনটি সামরিক শাখার প্রধান রনবীরকে গ্রেপ্তার করেছি। সর্বশেষ গ্রেপ্তার তিনজনসহ ইতোপূর্বে গ্রেপ্তারকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি আমিরের অবস্থান সম্পর্কে। তারা জানিয়েছেন, আমির মাহমুদ দেশের অভ্যন্তরেই আছেন। তবে ঠিক কোথায় সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বেচ্ছায় হিজরতকারীদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারা পর্যন্ত হুমকি

কমান্ডার মঈন বলেন, পাহাড় ছেলে সমতলে আত্মগোপনে করার পেছনের কারণটি হচ্ছে, তারা নতুন করে সংগঠিত হতে চায়। স্বেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণদের সবাইকে গ্রেপ্তার করতে না পারা পর্যন্ত অবশ্যই হুমকি। আমরা যে ৫৫ জনের তালিকা দিয়েছি এর বাইরেও অনেকে আত্মগোপন বা হিজরত করেছেন। আমরা এখন পর্যন্ত ৭৬ জনকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। এর বাইরে পাঁচ-ছয়জন প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে মারা গেছেন। মিলে আমরা ৮০/৮২ জনকে শনাক্ত করেছি। আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছিনা, তবে আমরা কিন্তু অনেকটাই সফল।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/