খুঁজুন
, ,

হাসাহাসি করায় ছাত্রীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠালেন স্কুলপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 June, 2023, 1:43 pm
হাসাহাসি করায় ছাত্রীকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠালেন স্কুলপরিচালক

শ্রেণিকক্ষে হাসাহাসি করায় গাজীপুর ক্যাডেট একাডেমি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী সিদরাতুল মুনতাহা মীমকে ব্যপক মারধর করেন স্কুলটির পরিচালক উম্মে কুলসুম শিল্পী। এ ঘটনায় মীমকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মারধরের এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সামাজিক চাপে নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করেন শিল্পী।

গত বুধবার বিকেলে নির্যাতিত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়। এর এক সপ্তাহ আগে গত ২৪ মে বুধবার গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার গাজীপুর ক্যাডেট একাডেমি স্কুলে মারধরের ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত উম্মে কুলসুম শিল্পী গাজীপুর জেলা মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সংরক্ষীত নারী সদস্য। অপরদিকে সিদরাতুল মুনতাহা মীম উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের বেলাশী গ্ৰামের মফিজুল হকের মেয়ে।

অভিযুক্ত শিল্পী বলেন, ‘এটা একটা ভুল বুঝাবুঝি ছিল। রাগের মাথায় মারধর করে ফেলেছিলাম। বিষয়টি ছাত্রীর অভিভাবকের সঙ্গে মীমাংসা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আর কোনো ধরনের অভিযোগ কারো নেই।’

নির্যাতিত শিক্ষার্থীর চাচা মঞ্জুরুল হক জানান, জেলা পরিষদ সদস্য শিল্পী তাদের বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মারধরের শিকার স্কুলছাত্রী এখন স্কুলে যেতে পারছে না।

তিনি বলেন, ক্লাস চলাকালীন কোনো একটি বিষয় নিয়ে হাসাহাসি করায় শ্রেণি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের শাসিয়েছেন। একপর্যায়ে হাসাহাসির বিষয়টি জানতে পেরে উম্মে কুলসুম শিল্পী শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে বেত দিয়ে ও প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করতে থাকেন। এ সময় বেশি হাসাহাসি করায় সিদরাতুল মুনতাহারের ওপর চড়াও হন শিল্পী। বেত্রাঘাতে তার বাহুতে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পরে তাকে অভিভাবকরা উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা করান।

তিনি আরও বলেন, ‘মারধরের শিকার হয়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ খোঁজ নেয়নি। পরে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ লিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে যাচ্ছিলাম। জানতে পেরে অভিযুক্ত শিল্পী আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে দুঃখ প্রকাশ করেন।’

এ ঘটনায় শ্রেণিকক্ষে মারধরের শিকার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমাদেরকে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম গোলাম মোর্শেদ খান বলেন, ‘ছাত্রীকে মারধরের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খোঁজ নিয়ে তদন্ত করতে বলেছি।’

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 3 October, 2026, 2:21 am
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা

রাজধানীর ঝিগাতলায় সাইকেল চুরির ঘটনায় নিরাপত্তার দাবি জানাতে গিয়ে ঢাকা কলেজের তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার জেরে মধ্যরাতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝিগাতলার বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সাইকেল চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাতে গেলে ঝিগাতলার একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠানের মালিক, ম্যানেজার ও কয়েকজন কর্মচারী তাদের ওপর হামলা চালান।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, এ সময় তিন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। তাদের মধ্যে একজনের মাথা ফেটে যায়। অন্য দুজনের শরীরেও আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া হামলার সময় এক শিক্ষার্থীর মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে একপর্যায়ে তারা ঝিগাতলায় জড়ো হন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বড় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন।

এ সময় ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শিক্ষার্থীরা হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে আবাসিক প্রতিষ্ঠানের মালিক, ম্যানেজার বা কর্মচারীদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/