এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্য
এইচএসসি পরীক্ষার মধ্যে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মিনহাজুল ইসলাম রোজান নামের এক পরীক্ষার্থী। পরিবারের দাবি, মিনহাজুলের ডায়াবেটিস থাকার বিষয়টি আগে তাদের জানা ছিল না। অসুস্থ হওয়ার পর একাধিক হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুরুতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের।
মিনহাজুল রাজধানীর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিলেন। চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। তবে অসুস্থতার কারণে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে পারেননি।
পরিবারের ভাষ্য, ৬ আগস্ট মিনহাজুল দুর্বলতা ও অসুস্থতার কথা জানান। শুরুতে পরীক্ষার প্রস্তুতির কারণে অতিরিক্ত চাপ ও ঘুমের ঘাটতিকেই এর কারণ মনে করা হয়। পরে কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর শারীরিক সমস্যাকে মানসিক চাপ বা প্যানিক অ্যাটাক হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
১২ আগস্ট অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। তখন পরীক্ষায় তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই সময়ই পরিবার জানতে পারে, মিনহাজুল ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে অস্ত্রোপচার করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২৩ আগস্ট আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কিশোর ও তরুণদের মধ্যেও ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে শুরুতে প্রচলিত উপসর্গ নাও থাকতে পারে। ডায়াবেটিসের গুরুতর জটিলতা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস হলে দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারের অভিযোগ, মিনহাজুল অসুস্থ হওয়ার শুরুতেই ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তাঁর চিকিৎসায় প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ।
মিনহাজুল এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কলেজের বিভিন্ন কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন। ভবিষ্যতে সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর।
ইতি/

আপনার মতামত লিখুন