খুঁজুন
, ,

এবার ভোট চুরির পরিকল্পনা করলে বাংলাদেশের মানুষ আ.লীগের ভিসা বাতিল করে -আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 19 July, 2023, 12:03 pm
এবার ভোট চুরির পরিকল্পনা করলে বাংলাদেশের মানুষ আ.লীগের ভিসা বাতিল করে -আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী-পুলিশ,সরকারি কর্মকর্তাদের উপর আমেরিকা ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভোট চুরি,সমাবেশে বাঁধা প্রদানের জন্য। এবার ভোট চুরির পরিকল্পনা করলে বাংলাদেশের মানুষ আ.লীগের ভিসা বাতিল করে দিবে। স্বাধীনতার পরবর্তীতে এ দেশে আমেরিকা কারো উপরে ভিসা বাতিলের নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। শেখ হাসিনা আমাদের লজ্জায় ডুবিয়েছে। আ.লীগের অধিনে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। বিএনপি না গেলে সরকার গঠন হবে না। আ.লীগের সাথে আছে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী,রাজনীতিবিদ। আর আমাদের সাথে আছে দেশের জনগণ। আপনারা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় আর উঠানে বসে বলবেন,ভোট চোর, ভোট চোর শেখ হাসিনা ভোট চোর। সরকারের শক্তি ঘনিয়ে আসছে বলেও জনান তিনি।

তিনি বলেন,পদযাত্রায় সরকার পতনের ম্যাসেজ দিয়েছে জনগণ। ফ্যাসিস্ট সরকারকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দিয়ে পতন করতে হবে।কেউ আক্রমণ না করলে সহিংসতায় যাব না। জনতা আমাদের সঙ্গে আছে, সহিংসতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আজকে যারা এসেছেন, প্রত্যেক আন্দোলন সংগ্রামে আসতে হবে।

বুধবার (১৯ জুলাই) বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি দলীয় কার্যালয়ের সামনে নূর মোহাম্মদ সড়কে চট্টগ্রাম উত্তর ,দক্ষিণ,মহানগর বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ে পদযাত্রা পূর্বে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমাদের উপর হামলা করেছে। আমাদের শান্তি-শৃঙ্খলভাবে আন্দোলন করতে হবে। সহিংসতা যারা করে তাদের সঙ্গে জনগণ নেই৷ আমাদের সঙ্গে জনগণ আছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষ, বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও ব্যক্তিকে সমর্থন দিচ্ছেন।

সবাই সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন দেখতে চাই জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে হবে। ভোট চুরির করার জন্য পুলিশ, ডিসি ও ইউএনও পোস্টিং করার হচ্ছে। যাদের পোস্টিং করার হচ্ছে, তারা তাদের দলীয় মানুষ।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে পদযাত্রা পূর্বে সমাবেশ আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মীর নাসির উদ্দিন,উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে রহমান শামীম, সদস্য সচিব আবুল হাসেম বক্কর, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশীদ। বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সুশীল বড়ুয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সি, যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক এনাম, উত্তর জেলা বিএনপির সি, যুগ্ম আহবায়ক এম এ হালিম।

আওয়ামী লীগের হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়েছে মন্তব্য করে আমির খসরু বলেন,
আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা, তার দল ও দলের ভোট সহযোগীদের হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়েছে। এমন কম্পন শুরু হয়েছে যে তারা আওয়ামী পুলিশ সন্ত্রাসী, তাদের দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের মিছিল মিটিংয়ে হামলা চালাচ্ছে।

লক্ষীপুরে আমাদের এক ভাইকে গুলি করে হত্যা করেছে। কিশোরগঞ্জে আক্রমন করেছে। অনেক নেতাকর্মী হতাহত হয়েছে। ফেনীতে আক্রমণ হয়েছে। খাগড়াছড়িতে আক্রমণ করেছে। কোনো লাভ হয়েছে? খাগড়াছড়িতে তারা পালিয়েছে। গতকাল মিরপুরে পদযাত্রায় আমি ছিলাম। সেখানে আক্রমণ করেছে। কিন্তু কিছু করতে পারেনি। তারা পালিয়েছে।

সহিংসতা যারা করে তাদের সঙ্গে জনগণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন সুশৃঙ্খল আন্দোলন। দেশের মানুষ আমাদের সাথে আছে। কারা সহিংস হবে? যারা সুশৃঙ্খল না। সহিংসতা যারা করে তাদের সঙ্গে জনগণ নেই। আমরা সুশৃঙ্খল। তাই আমাদের সহিংস হওয়ার দরকার নেই।

তাদের নির্ভরশীলতা আওয়ামী পুলিশের উপর, লুটেরা ব্যবসায়ীদের ওপর। আমাদের তাদের দরকার নেই। আমাদের দরকার বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণ রাস্তায় নেমেছে। জনগণ এই ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতা থেকে নামাবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, সারা দেশের ফ্যাসিস্ট বিরোধী গণতন্ত্রকামী মানুষ, বিশ্বের বিভিন্ন সরকার ও ব্যক্তি গনতন্ত্র রক্ষা করার এই আন্দোলনকে সমর্থন দেয়। তারা বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়, বাক স্বাধীনতা চায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা চায়, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চাই। এখানে সব পরিষ্কার। বার্তা পরিষ্কার। বার্তা যদি তাদের কাছে পরিষ্কার না হয় তাহলে আরও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে তাদের পতন ঘটাতে হবে।

আমীর খসরু বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। নতুবা আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন করতে হবে। দরকার হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। নতুবা নির্বাচনের পর পরিবর্তন করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

শেখ হাসিনা বিপদে আছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের লাখ লাখ জনতা এই পদযাত্রায় যোগ দিয়ে শেখ হাসিনার পতনের ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দিয়ে পতন করতে হবে। বিএনপি এখানে দাঁড়িয়েছে কারণ আমরা সুশৃঙ্খল ছিলাম। এজন্য শেখ হাসিনা বিপদে আছে। উশৃঙ্খল আন্দোলন দিয়ে দাবি আদায় করা যায় না। এক দফার দাবি শেখ হাসিনার বিদায়ের ডাক এসেছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ
হচ্ছে ভোগাস একটি দল। তারা এখন ভুয়া দলে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ
নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাদের অধীনে দেশে কোন নির্বাচন
হতে দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগে ভাল কোন রাজনীতিবিদ আছে বলে মনে হয় না।
সবাই আছে ধান্দার তালে। এই ধান্দাবাজদেরকে পলায়ন করতে হবে। বিজয় আমাদের
হবেই।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোলাম আকবর খন্দকার বলেন, আজকের পদযাত্রার একটিই
আওয়াজ, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। শেখ হাসিনার পদত্যাগের জন্য সারাদেশের মানুষ
রাস্তায় নেমেছে। এই ভোট চোর সরকারকে জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

এসএম ফজলুল হক বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দী করে রেখেছে। শেখ
হাসিনা বাংলাদেশকে কারাগারে পরিণত করেছে। জনগণ এর থেকে মুক্তি চায়।
এদেশের মানুষ ব্রিটিশ বেনিয়াদের যেভাবে তাড়িয়েছে শেখ হাসিনাকেও সেভাবে
তাড়াবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে
কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, এটা বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। শেখ
হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনাকে
অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের এই পদযাত্রা হচ্ছে
আওয়ামী লীগের মরণযাত্রা। বিএনপি এখনো পুরোপুরি মাঠেই নামেনি। এক হিরো
আলমের কাছে আওয়ামী লীগ হেরে গেছে। অতএব সাবধান হয়ে যান। জনগণ আজকে জেগে
ওঠেছে। বেগম খালেদা জিয়া সহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দকে আমরা মুক্ত করবো
ইনশাআল্লাহ।

নগরীর নূর মোহাম্মদ সড়ক থেকে শুরু নিউ মার্কেট, কদমতলী হয়ে দেওয়ানহাট গিয়ে বিএনপির পদযাত্রা শেষ হয়।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/