খুঁজুন
, ,

৬৪ দলের বিশ্বকাপ কি আসলেই সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 10:47 pm
৬৪ দলের বিশ্বকাপ কি আসলেই সম্ভব

স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে রোববার রাতে পর্দা নামল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের আয়োজন দেখল ফুটবল বিশ্ব। বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে ৬৪ দলের বিশ্বকাপের। কিন্তু এত বড় আয়োজন কি আদৌ সম্ভব হবে?

২০১৬ সালে ফিফা প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে যত বেশি নীতিতে এগিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানো, নতুন আঙ্গিকে ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন কিংবা টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য—সবকিছুতেই এর প্রমাণ মেলে। এমনকি জমকালো অনুষ্ঠানের চক্করে ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের হাফ-টাইম দীর্ঘায়িত হয় ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ড পর্যন্ত।

৬৪ বদলের বিশ্বকাপ নিয়ে ইনফান্তিনো যুক্তি—ছোট দেশগুলোকে যদি অংশ নেওয়ার সুযোগই না দেওয়া হয় তাহলে তাদের নিজেদের উন্নতির কোনো তাড়না থাকবে না।

প্রতিযোগিতার কাঠামোর দিক থেকে বিচার করলে, ৬৪ দলের এই পরিকল্পনা বেশ গোছানো শোনায়। ১৬টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে দলগুলো এবং প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল নকআউট পর্বে যাবে। ফলে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যে থেকে টেনেটুনে কয়েকটিকে পরের রাউন্ডে তোলার যে জটিলতা, তা আর থাকবে না।

কিন্তু টুর্নামেন্ট বড় করার পেছনে এই গাণিতিক সুবিধা ছাড়া আর কোনো যৌক্তিক কারণ কি আসলেই আছে?

এই বিশাল পরিবর্তনের পেছনে কারা?

ইতিহাসটা একটু পেছন থেকে দেখা যাক। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপটি হবে ফুটবল বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি (১০০ বছর)। প্রথম বিশ্বকাপ হয়েছিল উরুগুয়েতে। শতবর্ষী আসরটির মূল আয়োজক মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন হলেও, উদ্বোধনী তিনটি ম্যাচ হবে দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশ উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে।

দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন (কনমেবল) মূলত আরও বেশি ম্যাচ চায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে তারা একটি বিশেষ এককালীন টুর্নামেন্টের প্রস্তাব দেয়, যেখানে ৬৪টি দল অংশ নেবে।

তবে এই প্রস্তাবে বিশ্বের অন্য কোথাও থেকে তেমন সমর্থন মেলেনি। ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার (ইউয়েফা) সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন এটিকে টুর্নামেন্ট এবং বাছাইপর্ব—উভয় প্রক্রিয়ার জন্যই বাজে আইডিয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) প্রধান ভিক্টর মন্টালিয়ানি গত বছর সতর্ক করেছিলেন, এটি ‘ফুটবলের সামগ্রিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করবে।’ একই সুর মেলান এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) প্রধান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খালিফা।

অবশ্য বিরোধিতার মানে পরিকল্পনাটি বাতিল হয়ে যাবে এমন নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আসবে ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ জন সদস্যের ভোটেই।

এই সম্প্রসারণ কি শুধুই টাকার খেলা?

ইনফান্তিনো যখন ফিফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ফুটবলে আরও বেশি টাকা নিয়ে আসা। বর্তমানে প্রতিটি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ৪ বছর মেয়াদে ৮০ লাখ ডলার ফান্ড পায়, আর ছোট দেশগুলো পায় আরও অতিরিক্ত ১২ লাখ ডলার। প্রতিটি কনফেডারেশন ফুটবল উন্নয়ন ও প্রসারের জন্য পায় ৬ কোটি ডলার। আর এই কাড়ি কাড়ি টাকার কারণেই আগামী নির্বাচনেও ইনফান্তিনোর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

২০১৭ সালে ফিফা হিসাব করেছিল, ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে তাদের আয় হবে ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে তারা ফরম্যাট পরিবর্তন করে আরও ২৪টি ম্যাচ বাড়িয়ে দেয় এবং ফলশ্রুতিতে এবার তাদের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার।

খুব স্বাভাবিকভাবেই, ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট হলে টিভি স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি থেকে আয় আরও আকাশ ছোঁবে। ফিফার দাবি, ফুটবলের প্রচার ও প্রসার করা তাদের দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনের প্রধান হাতিয়ার আরও বেশি বেশি ফুটবল।

দল বাড়লে কি বিশ্বকাপের মান কমবে?

৬৪ দলের টুর্নামেন্টের প্রধান দুটি ইতিবাচক দিক রয়েছে: প্রথমত, একটি সহজ ও স্বাভাবিক টুর্নামেন্ট ফরম্যাট; দ্বিতীয়ত, উদীয়মান দেশগুলোর জন্য বড় মঞ্চে আসার সুযোগ।

সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিয়েছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, অতিরিক্ত যুক্ত হওয়া দলগুলো খুব একটা ভালো করতে পারবে না।

তবে বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দের মতো পুচকে দেশ। স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে তারা গ্রুপে দ্বিতীয় হয়। শেষ ১৬-র লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারে কেপ ভার্দে।

দল আরও বাড়লে বেলজিয়াম (২০২২), জার্মানি (২০১৮), স্পেন (২০১৪), ইতালি (২০১০) কিংবা ফ্রান্সের (২০০২) মতো শীর্ষ দলগুলোর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার যে নাটকীয়তা, তা হয়তো আর দেখাই যাবে না।

৬৪ দলের বিশ্বকাপে অতিরিক্ত দল যুক্ত হবে কোথায় থেকে

২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের হিসাব ধরলে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া বাড়তি দলগুলো হতো এমন:

এশিয়া: ইন্দোনেশিয়া (১১৮), ওমান (৭৯), সংযুক্ত আরব আমিরাত (৬৮)।

ইউরোপ: ডেনমার্ক (২১), ইতালি (১২), পোল্যান্ড (৩৬)।

কনকাকাফ : হন্ডুরাস (৬৫), জ্যামাইকা (৭১), সুরিনাম (১২৫)।

কনমেবল : বলিভিয়া (৭৭), ভেনিজুয়েলা (৪৯)।

ওশেনিয়া: নিউ ক্যালেডোনিয়া (১৫১)।

আফ্রিকা : বুর্কিনা ফাসো (৬২), ক্যামেরুন (৪৪), গ্যাবন (৮৬), নাইজেরিয়া (২৬)।

এই বাড়তি দলগুলোর মধ্যে মাত্র ৬টি দল ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৫০-এর মধ্যে আছে। সমস্যাটা এখানেই। এশিয়া এবং কনকাকাফ তুলনামূলক দুর্বল অঞ্চল, যা গত আসরের পারফরম্যান্সেই স্পষ্ট।

আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টিই নকআউট পর্বে উঠেছিল। অথচ এশিয়ার ৯টি দলের মধ্যে মাত্র ২টি এবং কনকাকাফের ৬টি দলের মধ্যে মাত্র ৩টি দল (যারা সহ-আয়োজক ছিল) পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছিল। ওশেনিয়া অঞ্চল থেকে নিউ জিল্যান্ড মাত্র ১ পয়েন্ট পেয়ে তলানিতে ছিল, অথচ ওশেনিয়া মহাদেশের মধ্যে ওরাই একমাত্র দল যারা বিশ্বের শীর্ষ ১৫০-এর মধ্যে আছে।

তাই যুক্তি বলে, প্রতিযোগিতার মান ঠিক রাখতে হলে ইউরোপকে আরও বেশি আসন দেওয়া উচিত। কিন্তু বিপরীত যুক্তি হলো, বিশ্বকাপে বেশি সুযোগ পেলেই কেবল ওইসব দেশে ফুটবলের উন্নয়ন সম্ভব। কিন্তু এতে টুর্নামেন্টের আসল সৌন্দর্য বজায় থাকবে কি না—তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশই যদি মূল পর্বে খেলে, তবে গ্রুপ পর্বটা কি কেবলই নকআউট পর্বের টিকিট পাওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নেবে না?

৬৪ দলের আয়োজনের লজিস্টিক জটিলতা

খাতাকলমে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা মানে কেবল বাড়তি ৪টি গ্রুপ জুড়ে দেওয়া। কিন্তু দল বাড়লে টুর্নামেন্টের সময়ও বাড়বে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হতে সময় লেগেছে ৩৯ দিন। আরও ২৪টি ম্যাচ বাড়লে শিডিউলে অতিরিক্ত ২০টি স্লট লাগবে, যার অর্থ টুর্নামেন্ট আরও ৫ দিন দীর্ঘায়িত হবে।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ দুটি বিশেষ কারণে সফল হয়েছিল: একাধিক টাইম জোন এবং ইনডোর স্টেডিয়াম। ইউরোপে সাম্প্রতিক তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দিনের আলোতে খেলা দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

অন্যান্য আয়োজক দেশের পক্ষে আটলান্টা, ডালাস, হিউস্টন বা ভ্যাঙ্কুভারের মতো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও ছাদঢাকা স্টেডিয়াম তৈরি করা সহজ নয়। সৌদি আরবের ২০৩৫ সালের বিশ্বকাপটি হয়তো তীব্র গরম এড়াতে জানুয়ারি মাসে সরিয়ে নেওয়া হবে কিন্তু অন্য দেশগুলো এই আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা পরিষ্কার নয়।

বিশ্বকাপে দল বাড়লে অতিরিক্ত স্টেডিয়ামের প্রয়োজন হবে। এশিয়ান বা আফ্রিকান দেশ কীভাবে এই বিশাল খরচের ফান্ড জোগাড় করবে সেটা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ১৬টি আয়োজক শহরে ৪৩,০০০ থেকে ৮১,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম লেগেছিল। দল বাড়লে স্টেডিয়াম আরও বেশি লাগবে।

৬৪টি দলের জন্য ৬৪টি বিশ্বমানের আধুনিক ও এলিট ট্রেনিং সেন্টারের প্রয়োজন হবে। বিশ্বজুড়ে আসা লাখ লাখ ভক্ত-সমর্থকদের থাকার জন্য হোটেল এবং তাদের যাতায়াতের জন্য বিশাল অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়বে।

তাই বিশ্বকাপ বড় করা মানে কেবল কয়েকটি দেশকে খেলার সুযোগ দেওয়া নয়, এর পেছনে রয়েছে বিশাল লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ।

মূল প্রতিবেদন: বিবিসি

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/