খুঁজুন
, ,

খেলাপিদের ধরতে কোনো বাছবিচার হবে না, দেখা হবে না কোনো পদ পরিচয়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 1 February, 2024, 2:19 am
খেলাপিদের ধরতে কোনো বাছবিচার হবে না, দেখা হবে না কোনো পদ পরিচয়

দুর্বল ব্যাংকের মার্জারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম দফায় দুর্বল ব্যাংককে সতর্ক, এরপর উন্নতি না হলে অন্য একটি ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত (মার্জার) করা হবে। আর খেলাপিদের ধরতে কোনো বাছবিচার হবে না, দেখা হবে না কোনো রাজনৈতিক পদ পরিচয়। এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (৩১ জানুয়ারি) ব্যাংকার্স সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। পরে সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক।

দেশের ব্যাংকিং খাতে ঋণ খেলাপি ও নানা অনিয়মের কারণে বেশ কিছু ব্যাংক নাজুক অবস্থায় রয়েছে। কোন কোন ব্যাংক সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে, এর তালিকা প্রকাশ না করলেও সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ব্যাংকের তালিকায় ৪র্থ প্রজন্মের ব্যাংকও রয়েছে।

বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডলার লেনদেনের নতুন পদ্ধতি ক্রলিং পেগ বাস্তবায়ন, কারেন্সি সোয়াপের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে ধার দেওয়া, প্রোমোট কারেক্টিভ অ্যাকশন (পিসিএ) বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে প্রস্তুতি নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর মামলায় আটকে থাকা বিপুল অঙ্কের খেলাপির টাকা আদায়ে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই বৈঠকে।

এসব ব্যাংক বাছ–বিচার ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গ্রাহকের আমানতের টাকা নির্বিচারে ঋণ দেওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট চরমে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে তারল্য সহায়তা নিতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর সংস্কারের জন্য প্রোমোট কারেক্টিভ অ্যাকশন (পিসিএ) নীতিমালা জারি করা হয়েছে। সেখানে সংস্কারের ক্ষেত্রে কীভাবে ব্যাংকগুলোর অবস্থা নির্ণয় করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা দেওয়া আছে। যেকোনো বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিকের হিসাব ধরে পরবর্তী বছরের মার্চ ব্যাংকগুলোর চারটি ক্যাটাগরির ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হবে।

মেজবাউল হক আরও বলেন, এ জন্য ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের ব্যক্তিগত ভাবে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে। আর যেসব ব্যাংকের অবস্থা একেবারেই দুর্বল তাঁদের ঋণ বিতরণ, আমানত সংগ্রহ থেকে শুরু করে কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। কোনো ব্যাংকের অবস্থা ক্রাইটেরিয়া পূরণে ব্যর্থ হলে সেই ব্যাংক বিধিমালার আলোকে একীভূত (মার্জার) করা হবে, তবে এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকগুলো যদি তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে তাহলে কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা আসবে না।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী ব্যাংকিং পরিচালনা হবে। ব্যাংকে সুশাসন ফেরাতে যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সবকিছুই করতে গভর্নর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া খেলাপিদের ধরতে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে মার্জার ও ব্যাংক সুশাসন বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, খেলাপিদের রাজনৈতিক ছাড় না দিলে খেলাপি কমবে। এখন প্রকৃত খেলাপি ২৫ শতাংশ। তা কমে আসবে। তখন তারল্য বাড়বে। তবে এটা দেরি হয়ে গেছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক ধরে আগাতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের ডিসেম্বর প্রান্তিক ধরলে কার্যকর হবে ২০২৫ সালের মার্চে। তবে সেটাও ভালো। তবে করবে কি না তা ভবিষ্যতে দেখা যাবে।

দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার পাশাপাশি ঋণ খেলাপিদের ধরা, ডলার সংকট কাটাতে ক্রলিং পেগ বাস্তবায়ন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ব্যাংকারদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, আমরা সম্প্রতি সংকোচন মূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছি। সেখানে টার্গেট বাস্তবায়ন পর্যন্ত এই ধরনের মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে। এ জন্য তাদের আগে থেকেই সতর্ক থাকতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যাতে তারা তারল্য ব্যবস্থা ঠিক করতে পারে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের সুশাসন ফিরাতে চাই। এ জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় মার্জার ইকুইজিশন করেছি। এছাড়া আমরা ব্যাংকের সুশাসন ফেরাতে একটি কমিটি গঠন করেছি। তাদের নেয়া অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের সুদের হার আরও বাড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় না পড়ে সে বিষয়ে তাদের আগে থেকেই পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ডলার সোয়াপে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ডলার আছে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিয়ে প্রয়োজন হলে ডলার রেখে টাকা নিতে পারবে। সময় শেষে টাকা ফেরত দিয়ে ডলার ফেরত নিতে পারবে। যেসব ব্যাংকের কাছে শর্তের অতিরিক্ত ডলার থাকে। বিশ্বের অনেক দেশেই এ ধরনের চর্চা আছে। এর আগে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়নি। তাই চর্চা ছিল না।

মেজবাউল হক আরও বলেন, আদালতে আটকে থাকা অর্থ মামলা কমাতে এডিআরের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের। এতে মামলার সংখ্যা কমে আসবে। তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে যেন কোনো গ্রাহক এই এডিআরের সুবিধা নিয়ে কালক্ষেপণ না করতে পারে।’

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আইএমএফ তাদের দেওয়া ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কার করার পদক্ষেপ নিতে বলেছে। সে ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যাংককে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার মাধ্যমে গুণগত মান বাড়ানো অন্যতম। তবে ব্যাংক একীভূত করার মতো হুঁশিয়ারি ও ঋণ খেলাপি ধরার জন্য যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, এটির বাস্তবায়ন বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যাংকার্স সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার সভাপতেত্বে এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা অংশ নেন।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/