খুঁজুন
, ,

কোচিংয়ে পড়াতেন, ব্যবসায় নেমে তরুণীর দিনে আয় আট লাখ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 3 July, 2023, 10:29 am
কোচিংয়ে পড়াতেন, ব্যবসায় নেমে তরুণীর দিনে আয় আট লাখ টাকা

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকের পড়াশোনার পাশাপাশি এক কামরার ফ্ল্যটে কোচিং করিয়ে রোজগার করতেন। তবে বছর দুয়েক আগে লকডাউন চলাকালে নিজের পড়াশোনা থেকে কোচিংয়ের ক্লাস, সবই ছেড়েছুড়ে ব্যবসায় পা রাখেন উনিশের কন্যা। গড়ে তোলেন নখসজ্জার নিজস্ব ব্র্যান্ড— গ্লোয়ি।

আজকাল সেই ছোট্ট ফ্ল্যাট থেকেই দিনে ৮ লাখ টাকা আয় করেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বাসিন্দা ক্লোয়ি ঝু। এমনই জানিয়েছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম ‘৭নিউজ়’। ক্লোয়ির কাহিনি প্রকাশ্যে আসামাত্রই তা নানা সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে। ব্যবসা শুরু করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছাড়ার কথা গোড়ায় মা-বাবাকে জানাননি ক্লোয়ি। এক রাতে বাড়ির সবাই মিলে খাওয়াদাওয়ার সময় সে কথা ফাঁস করে দেন তার ভাই।

‘৭নিউজ়’-এর বিনোদন এবং জীবনধারা বিভাগ ‘৭লাইফ’-এর কাছে ক্লোয়ি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা যে ছেড়ে দিয়েছি, তা প্রায় আট মাস ধরে জানত না মা-বাবা। এক রাতে খাওয়ার টেবিলে সে কথাটা পেড়েছিল ভাই। বলেছিল, ‘এখনও মা-বাবাকে বলোনি যে তুমি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছ! সে সময় ঘরে যেন বোমা ফেটেছিল।

ব্যবসার ঝুঁকি অবশ্য পুরোপুরি নিজের তাগিদে নিয়েছিলেন ক্লোয়ি। কোভিডের জেরে দেশে লকডাউন চলছিল। স্কুল-কলেজ দোকানপাট থেকে তালা ঝুলছিল পার্লারেও। তবে ম্যানিকিয়োর করানোর প্রয়োজন ছিল ক্লোয়ির। কিন্তু সব পার্লারেই তো ঝাঁপ ফেলা রয়েছে। কী করবেন?

সাতপাঁচ ভেবে নখসজ্জার নিজের ব্র্যান্ড গড়ে ফেলেন তিনি। তার আগে অবশ্য এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন ক্লোয়ি।

নিউ সাউথ ওয়েলসের হাইস্কুলে পড়ার সময় থেকেই মেধাবী বলে নামডাক ছিল ক্লোয়ির। হাইস্কুলের পরীক্ষায় অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ান টেরিটরি অ্যাডমিশন র‌্যাঙ্ক (এটিএআর)-এ তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৯৯.৫। সেই নম্বরের ভিত্তিতেই স্নাতকস্তরে ফাইনান্স এবং কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও কেরিয়ারে দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না ক্লোয়ি। তিনি বলেন, কোন পথে এগোচ্ছিলাম, তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণাই ছিল না আমার। তবে বেশ বুঝতে পেরেছিলেন, ভবিষ্যতে ফাইনান্স বা কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে কেরিয়ার গড়বেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই অবশ্য ঘরে বসে কোচিংয়ের ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। ইংরেজি ভাষাশিক্ষার জন্য সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টার বেশি কোচিং করাতেন ক্লোয়ি। তিনি বলেন, ‘‘স্নাতকের বিষয়ে দু’বার বদল করলেও বেশ বুঝতে পারছিলাম, ঠিক পথে এগোচ্ছি না আমি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছিলাম।’’

লকডাউনে নখসজ্জার জন্য পার্লার খুঁজে না পেয়ে তা নিয়েই ব্যবসা শুরুর কথা মনে হয়েছিল ক্লোয়ির। নখের উপর রংবেরঙের কৃত্রিম নখ লাগানো বা ‘প্রেস-অন নেলস’-এর বাজারচলতি ব্র্যান্ডগুলি তাঁর মনের মতো হচ্ছিল না। তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের নখগুলি হয় বেশ বড়সড়, নয়তো ঝুটো বলে মনে হয়। মনে হয়েছিল, ওগুলো আমার জন্য ঠিকঠাক নয়।’’

নখসজ্জার নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়তে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে দিনরাত গবেষণায় লেগে পড়েছিলেন ক্লোয়ি। তিনি বলেন, ‘‘ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়েছিলাম। বাজারে কী কী প্রোডাক্ট রয়েছে? কারা সে সব তৈরি করছে বা কোন জিনিসের কেমন চাহিদা— খুঁটিনাটি সব খুঁজে বার করতে শুরু করেছিলাম।’’

নখসজ্জার বাজার সম্পর্কে বিস্তর অনুসন্ধানের পর জন্ম নেয় ‘গ্লোয়ি’। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে ক্লোয়ির নিজস্ব ব্র্যান্ড।

কোচিং করিয়ে যে সঞ্চয় করেছিলেন, তা থেকে নিজের ব্যবসায় প্রায় ২১ লক্ষ টাকা ঢেলেছিলেন। ক্লোয়ি বলেন, ‘‘ব্যবসার সব কিছুই শুরু হয়েছিল কোভিডের সময়…. আমার বেডরুম থেকে।’’

‘গ্লোয়ি’র ওয়েবসাইট তৈরি করা, তার কনটেন্ট লেখা থেকে শুরু করে নখসজ্জার জিনিসপত্র বাক্সবন্দি করে ফেলা— এ সবই একার হাতে করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্লোয়ি।

ব্যবসার কোনও অভিজ্ঞতা না থাকলেও প্রথম দিন থেকেই ভালই বিক্রিবাটা হয়েছিল ‘গ্লোয়ি’র। ব্র্যান্ডের জন্য যে টিকটক ভিডিয়ো তৈরি করেছিলেন, তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়।

নতুন ব্যবসা দৌড়তে শুরু করলে কোচিং করানো বন্ধ করে দিয়েছিলেন ক্লোয়ি। সে সময়ও তাঁর কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ৫০ জনের বেশি আবেদনকারী ছিলেন। তবে সে ব্যবসা গুটিয়ে নতুন ব্র্যান্ড গড়ায় মন দেন ক্লোয়ি।

পুঁথিগত বিদ্যায় ব্যবসা দাঁড় করানো যায় না বলে মনে করেন ক্লোয়ি। তাঁর কথায়, ‘‘ব্যবসার প্রস্তুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কাজে আসেনি। বরং ইন্টারনেটে খুঁটিনাটি সুলুকসন্ধান করা বা ই-কমার্সের ক্ষেত্রের লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করে এ ব্যবসা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি।’’

১৯ বছর থেকে ২১— এই স্বল্প সময়েই যে ব্যবসায় সাফল্যের মুখে দেখেছেন তা যে এখনও বিশ্বাস হয় না ক্লোয়ির। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণত এক দিনে ১০,০০০ ডলার বা ৮ লক্ষ টাকার বিক্রিবাটা হয়। তিনি জানিয়েছেন, গত এপ্রিলে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা আয় করেছেন।

ব্যবসার মতো অনিশ্চিত ক্ষেত্রে পা বাড়াতে আগ্রহীদের জন্য ক্লোয়ি বলেন, ‘‘এ বার শুরু করে দিন। ধীরে ধীরে যত এগোবেন, সব কিছু বুঝতে পারবেন। প্রথম বার ব্যবসা করতে নেমে আমার কোনও ধারণাই ছিল না, কী করছি। তবে ব্যবসা সম্পর্কিত যা কিছু শিখতাম, স্পঞ্জের মতো সে সব কিছু শুষে নিতাম।’’ সূত্র: আনন্দবাজার

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/