খুঁজুন
, ,

মরহুম এডভোকেট ফয়জুর রহমান স্মরণে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 24 June, 2023, 9:51 am
মরহুম এডভোকেট ফয়জুর রহমান স্মরণে

বরেণ্য আইনবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, চন্দনাইশ মনিষা, ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম জেলা বার এসোসিয়েশন এর প্রবীণ সদস্য মরহুম এডভোকেট ফয়জুর রহমানের আজ প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী।গত বছরের ২৭ জুন ৯০ বছর বয়সে তিনি মহান প্রভূর ডাকে সাড়া দিয়ে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন সমাজহিতৈষী, স্বাধীনতার স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ট ও রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী, বিশিষ্ট আইনবিদ ও একজন সফল পিতা।তিনি মানবিক সমাজ রচনার একজন নিভৃতচারী মানুষ ছিলেন।মরহুম ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় মানবদরদী ধর্মপ্রাণ মানুষ।দীর্ঘ ৬০ বছরের অধিককাল তিনি আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন।এডভোকেট ফয়েজুর রহমান এর গ্রামের বাড়ী চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশের বৈলতলী।

১৯৩৩ সালে ৬ আগস্ট তাঁর জন্ম।এডভোকেট ফয়জুর রহমানের পিতা মরহুম কোরবান আলী, মা মরহুমা মোছাম্মদ সোনাজান। তাঁর দাদা মরহুম মোহাম্মদ ওয়ালী, দাদী মরহুমা মিছরী খাতুন। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে উনি ছিলেন মা- বাবার মেজো সন্তান।পড়ালেখায় প্রচণ্ড আগ্রহের কারণে তিনি মা-বাবার অতি আদুরে ছিলেন। সে সময় বৈলতলী গ্রামে তিনিই প্রথম ডিগ্রি পাশ করেন। দূর-দূরান্ত থেকে তাঁকে বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসতেন। এই অপার সময়ে তিনি একাই নিজের পুরো পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন।১৯৫০ সালে ইস্ট বেঙ্গল সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ডের অধীনে বড়মা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৫২ সালে ইন্টারমেডিয়েট পাশ করেন।

১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি কলেজ অফ কমার্স থেকে বাণিজ্যে স্নাতক অর্জন করেন। ১৯৬০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম আইন কলেজ থেকে অর্জন করেন আইনে স্নাতক (এলএল.বি)ডিগ্রি ।১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্লিডার সার্ভে পরীক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্লিডার সার্ভে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।এলএল.বি ডিগ্রী লাভ করে তিনি চট্টগ্রাম জজকোর্টে এডভোকেট হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ষাট বছরের অধিককাল তিনি আইন পেশায় যুক্ত থেকে বিচার প্রার্থী অগণন মানুষকে আইন সেবা দিয়ে গেছেন।

আমার বাবা মরহুম এডভোকেট আলহাজ্ব আবু মোহাম্মদ য়্যাহ্য়্যা এবং আমার শ্বশুর আব্বা চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক শিক্ষক মরহুম আলহাজ্ব ব্যারিস্টার আমিনুল হক এর সাথে ঘনিষ্ঠতার কারনে তাঁকে আংকেল হিসেবেই সম্বোধন করতাম। লালখান বাজার পশ্চিম হাইলেভেল রোডে অবস্থিত আমার শ্বশুর বাড়ী ‚হেলেন ভিউ” এর নিকটেই তাঁর বাসা ছিল। তাঁর বড়ো পুত্র সন্তান বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশন এর সদস্য থাকাকালীন তাঁর সাথেও আমার অত্যন্ত হৃদ্যতা ও ভাতৃপ্রতিম সম্পর্কের কারনে ফয়জুর রহমান আংকেলকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভক্তি করতাম।তাঁরা নন্দনকানন এলাকায় বসবাসকালেও ছাত্রজীবন থেকে স্কাউটিং করা কালে আরিফ ভাইয়ের সাথে পরিচয় ছিল। তিনি একজন সংগীত শিল্পীও বটে। তার সুললিত কন্ঠে আধুনিক গান সকলকে বিমোহিত করে।মরহুম ফয়েজ আংকেল সজ্জন বিনয়ী মানুষটি ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় রাজনীতি করেছেন এবং স্কুল কলেজে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থেকেছেন।

১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনেও অংশ নেন। তিনি প্রথম থেকেই মনে-প্রাণে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৬৫ সাল থেকে দীর্ঘদিন তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের (তৎকালীন মহকুমা আওয়ামী লীগ) ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। বিভিন্ন জনসভায় তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামের হয়ে বিশাল সমাবেশের নেতৃত্ব দেন।

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে পুরো দেশের মতো দক্ষিণ চট্টগ্রামে রাজনীতিতে উত্তাল হয়ে ওঠে। সেই সময় গণ-অভ্যুত্থানে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭০ সাল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান দক্ষিণ চট্টগ্রাম আসবেন। উপলক্ষ সামনে নির্বাচন। জোর প্রচার ও সংগঠিত হচ্ছে মানুষ।পূর্ব- পাকিস্তানীদের উপর পশ্চিমাদের বৈষম্য চরমে পৌঁছেছে। ১৯৭০ সালে ২৬ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু দক্ষিণ-চট্টগ্রামে আসেন। বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা দেওয়া হয়।এই অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি ছিলেন আংকেল এডভোকেট ফয়জুর রহমান।

তখন ২০১ সদস্য বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধুর অভ্যর্থনা কমিটির সম্পাদক ছিলেন আতাউর রহমান খান কায়সার ও কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এস এ খালেক।১৯৭০ সালের ২৪ এপ্রিলের দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিত ‚দক্ষিণ মহকুমায় শেখ মুজিবের সফর, শেখ মুজিব অভ্যর্থনা কমিটির আহবান” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে লিখা হয়, গত ২২ তাং এডভোকেট জনাব বদিউল আলমের সভাপতিত্বে সদর দক্ষিন মহকুমা আওয়ামী লীগের এক বর্ধিত সভায় এডভোকেট জনাব ফয়জুর রহমানকে চেয়ারম্যান, আতাউর রহমান খান কাইসারকে সম্পাদক, জনাব এম এ খালেক কে কোষাধ্যক্ষ করিয়া আরো কয়েকজন কর্মকর্তা ও ২০১ জন সদস্য সমবায়ে শেখ মুজিব অভ্যর্থনা কমিটি গঠিত হয়।

এডভোকেট ফয়জুর রহমান বঙ্গবন্ধুর এতটাই ভক্ত ছিলেন যে নিজের পুত্রদের নামের আগে তিনি —শেখ’ শব্দটি যুক্ত করে দেন। যা একটি বিরল ঘটনা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পথ প্রদর্শক ছিলেন। তিনি বান্দরবানে নিজের জায়গায় ঘর তৈরি করে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন, টাকা পয়সা রসদ দিয়ে তাদের টিকিয়ে রেখেছেন।তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে পরিবারের সাথে থাকতে পারেননি। সার্বক্ষণিক দেশ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। সব সময় টাকা পয়সা ও খবরাখবর নিয়ে বুদ্ধি দিয়ে তাদের সাহায্য করতেন।

এডভোকেট ফয়জুর রহমান ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য এবং চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের খাদ্য, কৃষি ও সমবায়, ত্রাণ, পুনর্বাসন কমিটির উপদেষ্টা প্যানেল সদস্য মনোনীত হন।১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-সাতকানিয়া সংসদীয় আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধু প্রাথমিকভাবে তাঁকে মনোনয়ন দিতে রাজি হন, যা বঙ্গবন্ধু প্রকাশ্যে বলতেন। কিন্তু পরবর্তীতে তা অন্যজনকে দেওয়ায় তিনি হতাশ হলেও আদর্শচ্যুত হননি। সবসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর প্রতি অনুগত ছিলেন।

১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর সামরিক লোকজন তাঁকে খুঁজছিলেন। এসময় তিনি কিছুদিনের জন্য আত্মগোপনে যান জেনারেল জিয়া ও এরশাদের আমলে তাঁকে রাজনীতি ও প্রশাসনে বিভিন্ন লোভনীয় পদের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। প্রার্থী যেই হোক, আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে সব সংসদ ও অন্যান্য সাধারণ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তিনি এ ধরনের অবদান ও আনুগত্য বজায় রেখেছিলেন। সব সংকটময় সময়ে তিনি দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক ও কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন। গ্রামের মানুষের সেবা করেছেন। সবসময় তাদের কথা ভাবতেন। সমাজ সেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আইন পেশায় সার্বক্ষণিক নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। এডভোকেট ফয়জুর রহমান চন্দনাইশের সাতবাড়ীয়া কলেজ প্রতিষ্ঠায় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

১৯৯৭ সালে তিনি বৈলতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।এডভোকেট ফয়জুর রহমান বিয়ে করেন সাতকানিয়া নিবাসী মরহুম মৌলানা রশিদ আহমদ নদভী-এর তৃতীয় কন্যা হোসনে আরা বেগমকে। মৌলানা রশিদ ছিলেন চট্টগ্রাম শহরের তৎকালীন ইসলামিক ইন্টারমেডিয়েট কলেজের (বর্তমান সরকারি মহসিন কলেজ) উর্দু বিভাগের অধ্যাপক। ফয়জুর রহমানের সহধর্মিনী হোসনে আরা বেগম ইতোমধ্যে —রত্নগর্ভা মা’ সন্মাননা অর্জন করেন। এডভোকেট ফয়জুর রহমান ও হোসনে আরা বেগমের সংসার জীবনে শিক্ষা ও সাফল্যের সুবাতাস বইতে থাকে। জ্যেষ্ঠ কন্যা ফরিদা পারভীন সাবেক এজিএম, সোনালী ব্যাংক; মেজো কন্যা ডা. রোকসানা পারভীন; জ্যেষ্ঠ পুত্র ব্যারিস্টার শেখ হাসান আরিফ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি; মেজো পুত্র শেখ হাছান শহিদ প্রকৌশলী ও সুবসতি প্রপার্টিজের চেয়ারম্যান; সেজো পুত্র ডা. মো. শেখ হাছান মামুন —হৃদরোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ’ ও বর্তমানে এভার কেয়ার হাসপাতালে —সিনিয়র কনসালটেন্ট- ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলোজিস্ট’ হিসেবে দায়িত্বরত আছেন; কনিষ্ঠ পুত্র শেখ হাছান জামান ভারতের ব্যাঙ্গালোর থেকে এমবিএ সম্পন্ন করে বর্তমানে রপ্তানী ব্যবসার সাথে জড়িত আছেন এবং ছোট কন্যা শবনম পারভীন এমবিএ সম্পন্ন করে বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে, ৩ মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণাগ্রাহী রেখে যান। মরহুমের ১ম জানাজা বাদে এশা লালখান বাজার এলাকায় ১ম জানাজা, এবং পরদিন সকাল ১০ টায় কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে ২য় জানাজা এবং বাদে আছর চন্দনাইশের বৈলতলীস্থ নিজ গ্রামে ৩য় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, প্রবীণ এ আইনবিদ বার্ধক্যজনিত কারণে ২৭ই জুন ২০২২ইং বিকেলে নগরীর লালখানবাজারস্ত বাসভবনে ইন্তেকাল করেন।এডভোকেট ফয়জুর রহমানের পুত্র সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বাবার মৃত্যুর পর কুলখানি উপলক্ষে সস্ত্রীক (জেবুন্নেসা বেগম শেলী সহ) চট্টগ্রামের চন্দনাইশে গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন।সেখানে দুপুরে তার স্ত্রী জেবউন্নেসা শেলী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জাস্টিস আরিফ ও জেবউন্নেসা দম্পতির তিন সন্তান যথাক্রমে দুই কন্যাঃ তাসফিয়া হাসান (২২), নামিরা হাসান(১৮); এক পুত্রঃ রেশাদ হাসান(৯)। ভাবীর শেষ ইচ্ছে ছিল স্বামী সন্তান নিয়ে কাশ্মীর বেড়াতে যাবেন। আমার কাছ থেকে আরিফ ভাই কিছু গাইড লাইনও নেন। আল্লাহ্ তাআলা তাঁর মেহমান করে তাঁকে নিয়ে যান। স্বামী ও শিশু সন্তানদের ফেলে তিনি আকস্মিকভাবে উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরন করেন।আল্লাহ্ তাআলা এ মহান শিক্ষাবিদ এডভোকেট ফয়জুর রহমান আংকেল ও তাঁর পুত্রবধূকে জান্নাতুল ফেরদৌসের চিরস্থায়ী বাসিন্দা করে দিন এবং তাদের ভালোও কাজগুলো সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করে নিন,আমীন।

লেখকঃজিয়া হাবীব আহ্সান, এডভোকেট , আইনবিদ,কলামিস্ট, মানবাধিকার ও সুশাসন কর্মী।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/