কম্বোডিয়ায় চাকরির স্বপ্ন ভেঙে ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ বন্দিত্ব
কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে একটি কথিত ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ ১৭ দিন আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের এক যুবক। মো. শফিকুল ইসলাম নামের ওই যুবকের দাবি, সেখানে প্রতারণামূলক অনলাইন কার্যক্রমে অংশ নিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার পরিশোধের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান।
শফিকুলের ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরির আশায় দালালের মাধ্যমে গত বছরের অক্টোবরে কম্বোডিয়ায় যান তিনি। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাঁর পাসপোর্ট ও মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁকে থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে একাধিক ভবনের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছিল কথিত প্রতারণাকেন্দ্রটি।
সেখানে তাঁকে বিভিন্ন স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করতে এবং বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়। শফিকুলের দাবি, একটি অংশে ভারতীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে পুলিশ ও ব্যাংক কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো। অন্য অংশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপে ভুয়া পরিচয়ে বিদেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হতো।
কাজে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শফিকুল ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক বাংলাদেশি কাজ করতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি করেন তিনি। এরপর তাঁদের হাতকড়া পরিয়ে আটকে রাখা হয়। শফিকুলের অভিযোগ, ওই সময় তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে অন্যত্র বিক্রি করারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
প্রায় ১৭ দিন পর তাঁকে একটি গাড়িতে করে সিয়েম রিয়েপের একটি নির্জন এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর পাসপোর্ট ও মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হয়। পরে কম্বোডিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের সহায়তায় তিনি নমপেনে পৌঁছান।
শফিকুল জানান, তাঁর ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি কম্বোডিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের নজরে আসে। তাঁদের উদ্যোগেই কথিত স্ক্যাম সেন্টারে ৩ হাজার ২০০ ডলার পরিশোধ করে তাঁকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর দেশে ফিরে আসেন তিনি।
দেশে ফেরার পর চাকরির জন্য যাঁর সঙ্গে তাঁর চুক্তি হয়েছিল, সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন শফিকুল। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তি ঘটনার দায় এড়িয়ে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও পরে আর যোগাযোগ রাখেননি। বর্তমানে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সরকারের সহযোগিতা চান।
শফিকুলের দেওয়া পাসপোর্ট, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি ও আর্থিক লেনদেনের কিছু তথ্য প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। তবে কম্বোডিয়ায় তাঁকে আটকে রাখা, নির্যাতন এবং বিক্রির চেষ্টার অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি বিদেশে চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার ও অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত চক্রের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা, চাকরির চুক্তি, ভিসার ধরন ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতি/

আপনার মতামত লিখুন