খুঁজুন
, ,

স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলমের ২০ দফা কর্মপরিকল্পনা  নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা  

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 4 January, 2024, 8:19 am
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলমের ২০ দফা কর্মপরিকল্পনা  নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা  

চট্টগ্রাম-১০ নির্বাচনী এলাকার ফুলকপি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনজুর আলম ৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে জনাকীর্ণ সাংবাদিক ও নানাশ্রেণি ও পেশার লোকজনের উপস্থিতিতে ২০ দফা কর্মপরিকল্পনা একটি ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহার ঘোষণা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁর অতীত কর্মকান্ড সহ সমাজসেবার কিছু অংশ তুলে ধরেন ।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনে আমি চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে ফুলকপি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমি বিশ্বাস করি এ নির্বাচন দেশের দলমত নির্বিশেষে তথা সকল নাগরিকের অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন হবে। মানুষ স¦তঃস্ফুর্তভাবে, নির্ভয়ে, বিনা বাঁধায় ভোট কেন্দ্রে এসে তাঁদের মনোনীত প্রার্থীদের মহামূল্যবান ভোট প্রদান করে আমাকে নির্বাচিত করবে। তিনি বলেন,
আমার নির্বাচনি ইশতেহার ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আমি চট্টগ্রাম ১০ আসনের সম্মানিত ভোটারদের জানাতে চাই আগামী ৭ জানুয়ারী ২০২৪ ইং তারিখে আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে আসবেন এবং চট্টগ্রাম ১০ আসনের উন্নয়নে আমার ফুলকপি প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করে দেশ ও দশের সেবা করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন। সাবেক মেয়র বলেন বিগত ২০১০ খ্রি. তারিখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগরবাসী বিপুল ভোটে আমাকে মেয়র নির্বাচিত করে নগরভবনে পাঠিয়ে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমিও মেয়র নির্বাচিত হয়ে আমার সাধ্যমত আপ্রাণ চেষ্টা করেছি নগরবাসীকে সেবা দিতে। এবারও ঠিক সেভাবে আমার প্রতীক ফুলকপি মার্কায় আপনাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে মহান সংসদে পাঠিয়ে আপনাদের দাবীদাওয়া, নাগরিক অধীকার, এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিবেন। ইশতেহারে সংক্ষিপ্ত আকারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি কিছু অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছি।

যদি আমাকে আপনারা আপনাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেন ইনশাল্লাহ আমি আমার ইশতেহারের সবগুলি অঙ্গিকার পূরণ করতে সর্বাতœক চেষ্টা করে যাব। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলম বলেন, বিগত ৪০ বছর যাবত আমি মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি আমি ১৯৯৪ খ্রি. সাল থেকে ২০১০ ইং সাল পর্যন্ত ৩ মেয়াদে প্রায় ১৭ বৎসর টানা ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর পদে থেকে এলাকার সেবা করেছি। এ সময়ে ৯ বার (৩.৫ বছর) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১০ ইং সাল থেকে ২০১৫ খ্রি. মেয়াদ পর্যন্ত আমি নির্বাচিত মেয়র হিসেবে নগরবাসীর সেবা করেছি। আপনারা জানেন আমার মরহুম শ্রদ্ধেয় পিতা-মাতার নামে আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়াও আমি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এবং আলহাজ্ব হোছনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেছি।

বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানের অধীনে ১০৩ টি সেবাধর্মী মূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে যেখানে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাতৃ সদন হাসপাতাল, ডায়াবেটিক হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রাম, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, মন্দির, মহাশশ্মান সহ আরো অন্যান্য সেবাধর্মী মুলক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে আমি সারাজীবন মাটি ও মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকবৃন্দ সমাজ ও জাতির নির্ভরতার প্রতীক। আপনাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আজ স্বাধীন দেশের সংবাদ মাধ্যম। আমি আশা করি, আপনাদের আদর্শিক লেখনি ও সংবাদ উপস্থাপনের মাধ্যমে আমার বক্তব্য আপামঢ় জনগণের মাঝে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে আমার প্রতীক ফুলকপি মার্কায় মূল্যবান ভোটদানে উৎসাহিত করবেন ইনশাল্লাহ। সমাজসেবক মনজুর আলম উল্লেখ করেন যে,
আমরা হযরত মনছুর আলী শাহ (র.) এর বংশধর। চট্টগ্রাম পীর আউলিয়াদের পূণ্যভুমি। এ অঞ্চলে বসবাসরত সকল মানুষ যাতে নি:স্বার্থভাবে সেবা পায় এই আমার অঙ্গীকার। স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনজুর আলম তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের কর্মপরিকল্পনায় বলেন, * স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহযোগিতা, বেকার ছেলে-মেয়েদের চাকুরীর সু-ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। * ১০ সংসদীয় আসনের ৮টি ওয়ার্ড এলাকার অলি-গলি, রাস্তাঘাট, নালা-নর্দমা যে গুলি ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আমি স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংস্কার করার ব্যবস্থা করবো। * আমার নির্বাচনি এলাকা নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এবং ময়লা-আর্বজনা অপসারনের জন্য দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সমন্বয় করত: ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। * আমার নির্বাচনী এলাকায় যে সকল রাস্তা-ঘাটে সড়ক বাতির স্বল্পতা এবং সড়ক বাতি না থাকার কারণে রাত্রিকালে চলাচলে বিঘœ ঘঠে সে সমস্ত এলাকায় দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সড়ক আলোকায়ন ও সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। * আমার নির্বাচনী এলাকার শিল্প অঞ্চলে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকদের শিশু সন্তানদের পরিচর্যার জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা খোলা হবে। * আমার নির্বাচনী এলাকায় যে সকল ওয়ার্ডে পানীয় জলের অভাব রয়েছে সে সব ওয়ার্ডে আমাদের সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান আলহাজ্ব মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও হোছনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অর্থায়নে ৮ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১টি করে ডিব-টিউবওয়েল স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। * আমাদের ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মুমূর্ষ রোগীদের জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হবে। * জাতীয় কর্মসুচীগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমার নির্বাচনী এলাকায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। * আমার নির্বাচনি এলাকায় স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিরা জমি দান করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সে জায়গায় ১টি মাতৃসদন হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। যাতে অনগ্রসর ঘনবসতীপূর্ণ এলাকার গরীব মা-বোনেরা স্বল্প খরচে ডেলিভারীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করা হবে। * আমার নির্বাচনী ঘনবসতীপূর্ণ ওয়ার্ড এলাকায় স্কুলের অভাবে ছোট-ছোট ছেলে মেয়েরা পড়া-লেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সে সমস্ত এলাকায় জমি পাওয়া সাপেক্ষে আমাদের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। * আমার নির্বাচনী এলাকার গরীব মুমূর্ষ রোগীদের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে আমার নিজস্ব অক্সিজেন কারখানা থেকে বিনামূল্যে অক্সিজেন বোতল প্রদান করার লক্ষে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ১টি করে অক্সিজেন ব্যাংক স্থাপন করা হবে। * গরীব শ্রমজীবী মানুষের সুবিধার্থে প্রতি ওয়ার্ডের বস্তি এলাকায় সপ্তাহে ১দিন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে চিকিৎসাসহ বিনামূল্যে ঔষধ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। * সরকারের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তৃতীয় লিঙ্গদের জন্য পুর্নবাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে। * শহরের ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের লক্ষ্যে ভিক্ষুকদের জন্য সরকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তায় ভাতা প্রাপ্যতার উদ্যোগ নেয়া হবে। * মধ্যবিত্ত, গৃহহীন ও শ্রমজীবী মানুষের স্থায়ী ঠিকানার জন্য বহুতল বিশিষ্ট বাসস্থান নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। * গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আমাদের ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বিনা বেতনে অধ্যয়নের ব্যবস্থা করা হবে। * আমার নির্বাচনী এলাকা সাগরিকা থেকে নাসিরাবাদ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট পর্যন্ত মহিলাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১টি ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা হবে। * বর্তমান বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে কারিগরী শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। * গরীব ও মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য শিক্ষা বৃত্তি/এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। * আমার নির্বাচনি এলাকায় তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর সেবা নিশ্চিতকরণে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হারিছ, জাফর আহমদ, আবুল কাশেম, শাহ আলম, সুলতান আহমদ, মো. নুর মিয়া, এম.এ. তাহের, শাহীন আলম, আলহাজ¦ মোহাম্মদ সরওয়ার আলম, নিপুর চৌধুরী, শামসুল আলম সহ নানা শ্রেণি ও পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগ : স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনজুর আলম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার পর ৪ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রি. বৃহস্পতিবার তাঁর চট্টগ্রাম-১০ নির্বাচনী এলাকার ৮ ওয়ার্ডের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করেন। তাঁর নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় থেকে গণসংযোগ শুরু করে সাগরিকা মোড়, সিডিএ মার্কেট, পাহাড়তলী বারকোয়ারটার, ঈদগাঁ কাঁচা রাস্তা, মনছুরাবাদ, দেওয়ানহাট, টাইগারপাস, আমবাগান, পাহাড়তলী কলেজ রোড, ওয়ার্লেস মোড়, জাকির হোসেন মোড়, মহিলা কলেজ মোড়, জাকির হোসেন বাই লেইন, ২নং গেইট, জিইসি, ওয়াসার মোড়, ইস্পাহানী মোড়, দেওয়ানহাট, বাদামতলী মোড়, এক্সেস রোড, বড়পোল, নয়বাজার বিশ^রোড মোড় হয়ে তিনি নির্বাচন প্রধান কাযালয়ে গণসংযোগ সমাপ্ত করেন। গণসংযোগে তাঁর নির্বাচনী এলাকার নানাশ্রেণি ও পেশার বিশিষ্টজন সহ বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/