খুঁজুন
, ,

ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়নের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভায় বক্তারা

জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 November, 2023, 2:42 pm
জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প

ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এর যৌথ উদ্যোগে জাহাজভাঙ্গা শিল্প শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও শিল্প উন্নয়নকল্পে দিন-ব্যাপী ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভা গতকাল নগরীর স্টেশনরোডস্থ এক অভিজাত হোটেলে সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ মেটাল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট শ্রম আদালতের সম্মানিত সদস্য এ এম নাজিম উদ্দিন। সঞ্চালনায় ছিলেন ইন্ডস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের বাংলাদেশ সমন্বয়কারী মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, সরকারী সংস্থার প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের দক্ষিণ এশিয়া অফিসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা- প্রাভীন বি রাও, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক বিশ্বজিৎ শর্মা, বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুর রহমান, বিএমসিজিটিডব্লিউএফ এর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আবছার, বিল্স ইসি কমিটির সিনিয়র কর্মকর্তা পাহাড়ী ভট্টাচার্য, সদস্য রবিউল হক শিমুল, এডভোকেট জিনাত আমীন, বেলা এর মো: আবুল মুনছুর, দৈনিক আমাদের সময় এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম চৌধুরী, ইন্ডাস্ট্রিঅল এর অন্তর্ভুক্ত উভয় ফেডারেশনের সংগঠকবৃন্দ যথাক্রমে- মোহাম্মাদ আলী, জীবন চন্দ্র নাথ, মো. ইদ্রিস, মো. শহীদুল ইসলাম, নবীউল হক ও এবাদুল হক প্রমূখ। ইন্ডাষ্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়নের ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভা ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিল্স এর যৌথ উদ্যোগে জাহাজভাঙ্গা শিল্প শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা পরিস্হিতি উন্নয়নকল্পে দিন-ব্যাপী ত্রিপক্ষীয় জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সভায় সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প। এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দেশের স্বার্থে শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরী। যার কারণ আমাদের দেশে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে জাহাজ ভাঙ্গার সাথে সংশ্লিষ্ট আমাদের দেশে কোন লোহার খনি নেই। শিল্প কলকারখানা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো চালানোর জন্য কাঁচামাল হিসেবে ৭০% যোগান দিয়ে থাকে এ জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে। আগামী দিনের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সকলের একান্ত কর্তব্য।

আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রামের জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্প ক্রমেই সবুজায়নের আওতায় আসলেও কর্মরত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন হয়নি। শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডসমূহে বিদ্যমান ঝুকিঁপূর্ণ কর্মপরিবেশের গুণগত ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ইয়ার্ডসমূহে ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও প্রচলিত শ্রম আইন কার্যকর সহ জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পকে একটি শ্রমিক-বান্ধব, শোভন ও নিরাপদ শিল্প হিসাবে গড়ে তোলা আজও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে প্রতিয়মান হচ্ছে। আইনবিধি মেনে বর্জ্য্যমুক্ত জাহাজ আমদানী, জাহাজকে বিষাক্ত গ্যাস-কেমিকেল-ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত করা, মানবদেহ ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য নেতিবাচক ও ক্ষতিকর উপাদান ও জীবাণুসমূহ চিহ্নিতকরণ পৃথকীকরণ ও অপসারণ, বৈজ্ঞানিক ও নিরাপত্তামুলক পদ্ধতিতে জাহাজ-কাটা, কর্মরত শ্রমিকেরা যাতে কোন প্রকার স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে না থাকে তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিকভাবে স্হানীয় পরিবেশ-প্রতিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া যেন না হয় সেটি নিশ্চিত করা একটি শ্রমসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ কাজ।

জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পকে শোভন শিল্পে রূপান্তরিত করতে ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রমগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক। জাহাজ-ভাঙ্গা শিল্পের জন্য সম্প্রতি “বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বিল-২০১৮” সংসদে পাশ হলেও এ বিলে জাহাজভাঙ্গা শিল্পের জন্য প্রস্তাবিত বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি বলেও বক্তাদের কেউ কেউ মত দেন। আলোচনা সভা থেকে সকল জাহাজ ভাঙ্গা ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ অনুসারে পরিচয়পত্র ও নিয়োগপত্র প্রদান নিশ্চিতকরণে কাজ করার উপরও তাগিদ প্রদান করা হয়। সর্বোপরি, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভায় জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প শ্রমিকদের উন্নয়নে মালিকপক্ষ ও সরকারের অধিকতর কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিতকল্পে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

 

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/