খুঁজুন
, ,

দূষণে বিপন্ন কর্ণফুলী নদী 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 24 September, 2023, 3:27 am
দূষণে বিপন্ন কর্ণফুলী নদী 
 শিল্প, পয়োঃবর্জ্য, পলিথিনসহ রাসায়নিক-কঠিন ও তরল বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলী  নদীতে। দূষণে ঝুঁকিতে রয়েছে জীববৈচিত্র্য। নদী কমিশনের সমীক্ষা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।৭৯ স্থানে কর্ণফুলী নদী দূষণের চিত্র দেখেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। এরমধ্যে ৭৭ স্থানে রয়েছে ভয়াবহ দূষণ।

সমীক্ষাটি বলছে, ৭৭ স্থানের মধ্যে নগরীর ২৩ স্থানে দূষণ রয়েছে। ১৯টি খালের মাধ্যমে গৃহস্থালি, শিল্প-কারখানা, ডায়িং মিলের তরল ও কঠিন বর্জ্য সরাসরি পড়ছে কর্ণফুলীতে। এছাড়াও জেলার রাঙ্গুনীয়া, বোয়ালখালী ও কর্ণফুলী উপজেলায় ব্যাপক দূষণ রয়েছে। পরিবেশ আইন প্রয়োগে নদী দূষণ বন্ধ করার সুপারিশ করেছেন সমীক্ষাদলের সদস্যরা।

সমীক্ষাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নগরীর শিল্পজোন এলাকা ও জেলার কর্ণফুলী উপজেলায় নদী ব্যাপকভাবে দূষিত হচ্ছে। কর্ণফুলী উপজেলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে। সিমেন্ট, চিনি উৎপাদনকারী শিল্প, ফিশিং কমপ্লেক্স, তেল পরিশোধন কারখানার বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। এছাড়াও সিটি করপোরেশন এলাকায় গৃহস্থালি, শিল্প-কারখানা, ডায়িং কারখানার বর্জ্যও ফেলা হচ্ছে নদীতে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে নদীর তীরে গড়ে উঠা তেলের দোকান, খোলা টয়লেট, সার কারখানা, সিমেন্ট কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকার শিল্প-প্রতিষ্ঠানের কেমিক্যাল বর্জ্য ড্রেন ও খালের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে নদীতে। এছাড়াও কৃষি কাজে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার খালের মাধ্যমে নদীতে মিশছে। দূষণের কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পলিথিন-প্লাস্টিক বর্জ্য :

জেলার রাউজান উপজেলা থেকে সিটি করপোরেশন এবং নদী তীরবর্তী বিভিন্ন উপজেলা হয়ে মোহনা পর্যন্ত পলিথিন বা প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের ব্যাপক দূষণের শিকার কর্ণফুলী। নদীর তলদেশে পলিথিনের স্তর জমা হয়ে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যা নদীর মাছ, জলজপ্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিসাধন করছে। কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং করতে গিয়ে পলিথিনের স্তর নিয়ে বড় সমস্যায় পড়েছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিন স্তরে ২-৩ মিটার পলিথিন ও প্লাস্টিকের স্তর জমেছে নদীর তলদেশে। ফলে ৩১ ইঞ্চি ব্যাসের ড্রেজার দিনে ১০-১২ ঘণ্টার বেশি খনন কাজ চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের উপকূলীয় নদ-নদীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে। যা ৩৯ শতাংশ। এসব প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর তলদেশের মাটি, পানি, মাছ ও উদ্ভিদের ক্ষতি ছাড়াও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে বলে গবেষণায় বলা হয়েছে।

সরেজমিনে শাহ আমানত সেতু, চাক্তাই ও রাজাখালী খাল এলাকা ঘুরে দেখা যায় নদীর তীর ও তলদেশে পথিলিন এবং প্লাস্টিকজাতীয় পণ্যের স্তর পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে পলিথিনের স্তরের জন্য নদীর কিনারা ও তলদেশের মাটি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। কয়েকটি স্থানে পলিথিন বর্জ্য জমাট হয়ে পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে। চাক্তাই ও রাজাখালী খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কালো ও বিষাক্ত বর্জ্যমিশ্রিত পানি।

ওয়াসার উদ্বৃতি দিয়ে সমীক্ষাটি বলছে, চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন সাড়ে তিন কোটি লিটার স্যুয়ারেজ বর্জ্য তৈরি হয়। এর বেশিরভাগ পড়ছে নদীতে। এর সঙ্গে রয়েছে শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য।

এক সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিদিন চট্টগ্রাম নগরী থেকে নানাভাবে প্রায় আড়াই শ মেট্রিক টন পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। এসব বর্জ্য মাছসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এতে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের রোগ।

পরিবেশ অধিদপ্তর সমীক্ষা :

২০১৬ সালে কর্ণফুলীর দখল-দূষণ নিয়ে জরিপ করেছিল পরিবেশ অধিদপ্তর। তাতে বলা হয়, কর্ণফুলী নদীতে মিঠা পানির ৬৬ প্রজাতির এবং মিশ্র পানির ৫৯ প্রজাতির ও সামুদ্রিক ১৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। মিঠা পানির ২০-২৫ প্রজাতির ও মিশ্র পানির ১০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায়। ১০-২০ প্রজাতির মাছ ছাড়া অন্য প্রজাতির মাছ বিপদাপন্ন। এখনও মাঝে মাঝে কর্ণফুলী নদীতে ডলফিন দেখতে পাওয়া যায়। নদীর পাড়ে এবং আশেপাশে গড়ে উঠা ৩০০-৪০০ টি ছোট-বড় কল-কারখানার বর্জ্যসহ নগরীর কঠিন বর্জ্য অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে কর্ণফুলীর বাস্তুসংস্থান বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীর পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে। ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প না থাকায় নগরবাসীর সৃষ্ট ও গৃহস্থালি এবং পয়ঃবর্জ্যসহ প্রায় ১৫-২০ কোটি লিটার বর্জ্য নদীতে পতিত হচ্ছে।

জীববৈচিত্র্য :

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সমীক্ষা বলছে, কর্ণফুলী নদীতে এক সময়ে বেলে, কাঁচকি, চান্দা, পুঁটি, বাচা, চেলা, পাওয়া যেত। আইড়, কালিবাউস, কাতল, রুই, মৃগেল, বোয়াল, ফলই, পাঙ্গাস, নাইলোটিকা, গলদা, চিংড়ি, ছোট হরিণা চিংড়ি মাঝে মাঝে পাওয়া যায়। ২০ বছর আগে বাবমি, চিতল, কাঁচকুড়ি, পারশে ও বাঁশপাতা মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর পাওয়া যায় না। নির্বিচারে মৎস্য আহরণ, কারেন্ট জাল, ছোট ফাঁস জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবং দূষণের কারণে মাছ এবং জলজ উদ্ভিদ কমে যাচ্ছে। নদীতে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননের স্বীকৃত স্থান বা মৎস্য অভয়াশ্রম না থাকায় অনেক মাছ প্রজননের অভাবে হারিয়ে গেছে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে।

নদী রক্ষা কমিশন বলছে, কর্ণফুলীতে ৩৩ প্রজাতির মাছ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নদীতে শামুক, কাঁকড়া ও ঝিনুক পাওয়া যায়। চিল, সাদা বক, মাছরাঙা, ভুবন চিল, গাঙ্গচিল, পানকৌড়ি দেখা যায়। মাছসহ জলজপ্রাণী দিন দিন কমে যাচ্ছে। সরপুটি, ঘাউরা, রিঠা, বাঘাআইড়, বাঁশপাতা, ফ্যাসা, অলুয়া, চাকা মাছ ও রোশনাই চিংড়ি-কাঠালি চিংড়ি বর্তমানে বিরল। কিন্তু দুই দশক আগেও এসব মাছ সচরাচর পাওয়া যেত। এতে মৎস্যজীবী ও জেলে সম্প্রদায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নদীতে মাছসহ জলজপ্রাণীর উপস্থিতি ও বৈচিত্র্য এবং ইকো সিস্টেম দুই দশকে অনেক কমেছে। পলি জমে ও দূষিত বর্জ্যরে কারণে নদী ভরাট হয়ে গভীরতা কমে গেছে। মাছ ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ও প্রজননকেন্দ্র কমে যাচ্ছে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীতে লবণাক্ততা বাড়ছে। দূষণের কারণে নদীর পানি গৃহস্থালি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

সমীক্ষাটি বলছে, কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে চারটি নদী, ১৩৮টি সংযুক্ত খাল, বিল, ছড়া ও লেকের সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগ মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ ও জলজ প্রাণী নদী থেকে খাল-বিল ও লেকে বিচরণ করে। বংশবৃদ্ধি ও উৎপাদনসহ নানা ধরনের উন্নয়ন সাধনে সহায়ক হয়।

সরেজিমন :

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বোয়ালখালীর কালুরঘাটে দুটি পেপার মিলের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। কালুরঘাট সেতুর পশ্চিম পাড়ে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কঠিন বর্জ্য সরাসরি পড়ছে নদীতে। পশ্চিম গোমদণ্ডী ও শাকপুরা এলাকার দুটি লবণ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বর্জ্যও সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। কর্ণফুলী সংযোগ বোয়ালখালী খালের মিলিটারি পুল এলাকায় রয়েছে একাধিক লবণ ও কাগজ তৈরির কারখানা। রয়েছে গার্মেন্টস কারখানা। এসব কারখানার বর্জ্য খালের মাধ্যমে মিশছে নদীর পানিতে। পটিয়ার কোলাগাঁও ইউনিয়নের বোয়ালখালী খাল থেকে শিকলবাহা খাল পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটারে নির্মাণ করা হয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পুরোনো জাহাজ নির্মাণ কারখানাসহ অন্তত ১০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এসব কারখানার কঠিন ও রাসায়নিকমিশ্রিত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কর্ণফুলীতে। নদী দূষণের ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়, কর্ণফুলী উপজেলায়। এখানে নদীর তীর ও বিভিন্ন খালের পাড়ে গড়ে উঠেছে সিমেন্ট কারখানা, জাহাজ নির্মাণ-জাহাজ মেরামত, বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেল শোধনাগারসহ অনেক ভারী শিল্প। ভারী শিল্পের কঠিন বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে নদী। নগরীর পতেঙ্গা ও কালুরঘাট শিল্প অঞ্চলের বর্জ্য সরাসরি ও খালের মাধ্যমে ফেলা হচ্ছে নদীতে। এছাড়াও নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার বর্জ্য নালা-খালের মাধ্যমে মিশছে নদীর পানিতে।

 

 

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/