খুঁজুন
, ,

বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এখন জনতার দাবী : মাহবুবের রহমান শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 19 August, 2023, 1:50 pm
বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এখন জনতার দাবী : মাহবুবের রহমান শামীম

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া’র মুক্তি এখন জনতার দাবি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।

আজ শনিবার (১৯ আগষ্ট) দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভায় বেগম খালেদা জিয়া’র নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচি শুরুর আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন জনতার দাবী। এই দাবী অবশ্যই সরকারকে মেনে নিতে হবে। যদি সরকার জনগনের দাবী মেনে না নেয়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণই সরকারকে মানতে বাধ্য করাবে।আমাদের পরিষ্কার কথা, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। এবং ভালোই ভালোই পদত্যাগ করুন, এটাই একমাত্র পথ, এর বাইরে আর কোন বিকল্প পথ নেই।

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন,কিন্তু আওয়ামী অবৈধ সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যায় ভাবে বন্দি রেখে গনতন্ত্রের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবীতে বিএনপি নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছে। সারা দেশে আমাদের অগনিত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যেকটি সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের দীপ্ত কণ্ঠে শুধু একটি আওয়াজ এসেছে – বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই।

খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আওয়ামীলীগ আজ গনতন্ত্রের খোলসে তারা দেশে ফ্যাসিবাদী রাজত্ব কায়েম করেছে। সময় আর বেশী দিন নেই। বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের গগনবিদারী প্রতিবাদ আজ বহিঃবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। কোন তালবাহানা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে এবং পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবী মেনে নিন।

জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের মানুষ আজ জেগেছে। তারা একটি দাবিই করছে সেটা হলো দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সু-চিকিৎসা এবং সরকারের পদত্যাগ। কিন্তু ভোটার বিহীন এই অবৈধ সরকার দেশের মানুষের সেই চাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মুলক মামলা দেখিয়ে তাকে আটক করে রেখেছে। উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যদি বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হয় তাহলে এই সরকারের টিকিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি দেশনেত্রী বেগম খালেদা মুক্তি ও বেহায়া সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবীতে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। হামলা মামলা ও জেলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বিএনপি নেতাকর্মীরা কারো চক্ষুকে ভয় পাই না।

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজানো মামলায় ভূয়া রায় দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। সরকার সম্পূর্ণ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে কেবলমাত্র আদালতকে ব্যবহার করে নয়, সমস্ত রাষ্ট্র শক্তিকে ব্যবহার করে বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজা দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করেছে আওয়ামীলীগ। এবার আর কোনো ফর্মুলাতেই তারা মসনদ রক্ষা করতে পারবে না। সারা দেশের মানুষ আজ জেগে ওঠেছে। গনতন্ত্রের বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দিতে এবং এই জুলুমবাজ নিশিরাতের ভোট চোর বেহায়া সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।

পটিয়া বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে চট্টগ্রাম – কক্সবাজার মহা – সড়কের খরনা বাইপাস রোডে গিয়ে শেষ হয়।

পদযাত্রা কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন, নুরুল আনোয়ার, এড, এস এম ফোরকান আবদুল গাফফার চৌধুরী, বদরুল খায়ের চৌধুরী, এম মন্জুর উদ্দীন চৌধুরী, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, এস এম মামুন মিয়া, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মুজিবুর রহমান, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মোস্তাফিজুর রহমান, এড. ফৌজুল আমিন চৌধুরী, খোরশেদ আলম, মফজল আহমদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম সওদাগর, ভিপি মোজাম্মেল হক, মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জাহেদ, হুমায়ুন কবির আনসার, আমিনুর রহমান চৌধুরী, হাজী মো: রফিক, নবাব মিয়া, ইসহাক চৌধুরী, হামিদুল হক মান্নান, অধ্যাপক এহছানুল মৌলা, নুরুল কবির, মঈনুল আলম ছোটন, শফিকুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, এস এম সলিম উদ্দীন চৌধুরী খোকন, বিএনপি নেতা ইব্রাহীম খলিল, রেজাউল করিম নেছার, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, জেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আজগর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মন্জুর আলম চৌধুরী, সদস্য সচিব জমির উদ্দীন মানিক, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. মহসিন খাঁন তরুন, চন্দনাইশ পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মাদু, বাঁশখালী উপজেলার আহ্বায়ক মাষ্টার লোকমান, সদস্য সচিব রেজাউল হক চৌধুরী, বাঁশখালী পৌরসভার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব, পটিয়া পৌরসভার সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, চন্দনাইশ উপজেলার সদস্য সচিব আ,ক,ম মোজাম্মেল, কর্ণফুলী উপজেলা সদস্য সচিব হাজী মোহাম্মদ ওসমান, ডাঃ ফয়সাল, আবুল কালাম আবু, মোহাম্মদ হাসান চেয়ারম্যান, ইলিয়াস কাঞ্চন, জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মীর জাকের, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মাও, হাফেজ ফোরকান, সদস্য সচিব মাও. হাফেজ মুহাম্মাদ জাবের হোসাইন চৌধুরী, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব নাসির উদ্দীন , জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা আক্তার মুন্নি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি, সদস্য সচিব কামরু উদ্দীন সবুজ প্রমূখ।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/