খুঁজুন
, ,

পিতা মাতাই পারে সন্তানের যত্ন নি‌য়ে মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 31 July, 2023, 6:46 am
পিতা মাতাই পারে সন্তানের যত্ন নি‌য়ে মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখতে

চট্টগ্রাম জাত‌িসংঘ ঘ‌োষিত মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষ্যে UNODC কর্তৃক এবছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, “মানুষই মুখ্য, মাদককে না বলুন, শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলুন”।

রবিবার (৩০জুলা‌ই) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৩” উদযাপন করে স্থানিয় হোটেল সৈকত, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম এর ব্যান্ড্রয়েট হলে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জ‌ামান এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান‌ে কা‌েরান থেক‌ে তেলাওয়াত, গীতা, ত্র‌িপ‌িটক , বাই‌বেল পাঠ করার পর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রো (উত্তর) এর উপপরিচালক  হুমায়ূন কবির খন্দকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি হয়ে উপস্থিত ছি‌লেন ম‌ো আনোয়ার পাশা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম; বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফয়সাল মাহমুদ, পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), সিএমপি, চট্টগ্রাম; সফিকুৃল ইসলাম, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিস, চট্টগ্রাম। এসএম শফিউল্লাহ, বিপিএম (সেবা). পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন, ডা: মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রাম এর অতিরিক্ত পরিচালক মো: জাফরুল্যাহ কাজল; বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন চট্টগ্রামের উপ-মহাপরিচালক, কর্ণেল এস এম আবুল এহসান, পিবিজিএম, পিএসসি। এছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবুল হোসেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রো উত্তর ও দক্ষিণ কার্যালয়ের উপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা ও হুমায়ুন কবির খন্দকার, অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন যে সকল সমস্যা বিশ্ব মানবতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মাদক সমস্যা তার মধ্যে অন্যতম। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রা‌েধ‌ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে বাংলাদেশও একাত্মতা ঘোষণা করে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স  নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য আইন- শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। উপস্থিত বিশেষ অতিথিবৃন্দও তাদের বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে তাদের নিরলস কার্যক্রমের বিষয় তুলে ধরেন।

অ‌তিথ‌ি‌দের বক্তব‌্যে মূল বিষয় য‌া অাল‌োকপ‌াত করা হল সেটা হচ্ছ‌ে পিতা মাতাই পার‌ে সন্ত‌ানের যত্ন নি‌য়ে মাদক থেক‌ে দূর‌ে রাখত‌ে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়, চট্টগ্রাম এর অতিরিক্ত পরিচালক মো: জাফরুল্ল্যাহ কাজল, তার বক্তব্যে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০১৬ সাল হতে সারাদেশ তথা চট্টগ্রামে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক পরিসরে মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এদিবস উপলক্ষ্যে নানা ধরনের কর্মসূচির সাথে মাদকবিরোধী গোলটেবিল বৈঠক, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ফুটবল প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও সরকারী-বেসরকারী নিরাময় কেন্দ্রগুলো ফ্রি কাউন্সিলিং করে থাকে। তিনি আরো বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মাদকবিরোধী গণসচেতনতার পাশাপাশি মাদকের সরবরাহ হ্রাসে মাদক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, মামলা রুজু, মামলা তদন্ত, বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম কর্তৃক ২৪৩১৮টি অভিযান, ৩৮৭৩টি মামলা, ৪৬২১ জন গ্রেফতার ও ৩২৭ জন আসামী সাজাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারী মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ০১টি ও ৪২টি বেসরকারী মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। যাতে মোট ৫৯০টি শয্যা রয়েছে।

তাছাড়া শিহ্মার্থ‌ি‌দের প্রতি‌নিধ‌ি প্রথ‌ী‌তি বড়ুয়া,  সোমেন চৌধুরী অরৃূপ বক্তব‌্য দেন,

এ দিবস উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম হতে পৃথক ৩ টি ক্যাটাগরিতে রচনা ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতায় মোট ১৯ জন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও বিশেষ সাহসিকতায় পুরস্কার পেয়েছেন মোশাররফ হোসেন বাদল, চেয়ারম্যান, ৩ নং মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন, সোনাগাজী, ফেনী এবং মাদকবিরোধী বিশেষ প্রচার-প্রচারনা কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক ইনফো বাংলা।

প্রধান অতিথি বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করেন।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/