খুঁজুন
, ,

গণঅধিকার পরিষদে বিভক্তি, রেজা কিবরিয়ার পাল্লা ভারি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 7 July, 2023, 1:32 pm
গণঅধিকার পরিষদে বিভক্তি, রেজা কিবরিয়ার পাল্লা ভারি

গণঅধিকার পরিষদে ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নূরের মধ্যে তুমুল বিরোধ চলছে। বহিষ্কার পালটা অব্যাহতির পর এই দুই নেতা একে অপরের বিপক্ষে গুরুতর অভিযোগ তুলছেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।

সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতার বিভক্তির কারণে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়ার আগেই নতুন রাজনৈতিক দলটি এখন ভাঙনের পথে। দলটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এক পক্ষ রেজা কিবরিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে আর অপর পক্ষ নূরের। তবে পরিস্থিতি বলছে, দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বড় অংশটি রেজার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্য ৬ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, নুরুল হক নূর ও তার সমর্থকদের তৎপরতা অবৈধ। অপরদিকে দলের এই পক্ষের বিরুদ্ধে পালটা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন নুরুল হক নূর। দুপক্ষই একে অপরের ওপর গণঅধিকার পরিষদকে ভাঙার দায় চাপাচ্ছে।

গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ এই দুই নেতাকে ঘিরে অনেক দিন ধরেই দলটিতে অস্থিরতা চলছিল। সম্প্রতি সেই অস্থিরতা প্রকট রূপ নেয়। দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নূর- একে অপরকে পালটাপালটি অব্যাহতি দেন। এমনকি আহ্বায়ককে অপসারণের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এরপরই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলাদা সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন দুই শীর্ষ নেতা।

গত ২ জুলাই দুপুরে গুলশানে নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমাকে সরানোর জন্য সে (নূর) এত অস্থির হয়ে গেল যে, ভোট ছাড়া সে সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিল। আমাদের যে সংবিধান আছে সেখানে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে এই কাজটা করা সম্ভব। আহ্বায়ক বা সভাপতি সরাতে ৮১ জনের ভোট প্রয়োজন হয়। এছাড়া ভোটের আগেও তারা কিছু কাজ করেছে। তারা মিথ্যা স্বাক্ষর নিয়েছে। যারা সই করেননি তাদের সই ওখানে রয়েছে। সেজন্য আমরা ভুয়া স্বাক্ষর ও অনিয়মের মধ্যে ভোট গ্রহণের বিষয়ে মামলা করব। নুরুল হক, রাশেদ খান ও শাকিল-উজ জামানের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হবে। রেজা কিবরিয়া বলেন, তাকে সরানোর জন্য যে ভোট হয়েছে তাতে ৪৮ জনের মধ্যে ৩৬ জন সই করেছেন। বাকিরা সইও করেননি। আর আহ্বায়ককে অপসারণে কেন্দ্রীয় কমিটির ৮১ জনের ভোট দরকার। এটা করা হয়নি। তারপর আগের রাতে ভোট করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, দলের নেতৃত্ব আমার কাছেই আছে, থাকবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, একটা লোকের জন্য আজকে দলের এই অবস্থা। আমি মনে করি এটা ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের দলে অনেক ভালো ভালো লোক আছেন এবং তারা দলটাকে বাঁচাতে পারবে।

রেজা কিবরিয়া বলেন, এখন সবাই জানে যে মোসাদের একজন এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সদস্য সচিব নুরুল হক নূরের দুবাইতে মিটিং হয়েছে। দুবাই ও শারজাহর মাঝখানে একটি কফিশপে তাদের বৈঠক হয়েছে। এছাড়া দুবাইতে যে গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে গেছে সেই চালক আমাকে এই বিষয়ে বলেছে। বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূতও বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন। ১৮ জুন আমার বাসায় মিটিংয়ে আমাদের সামনে এ কথা স্বীকার করেছে নূর। আমাদের প্রবাসী অধিকার পরিষদ থেকে অনেক টাকা আসে। সেই টাকা কোথায় যায়, কে নেয় তার কোনো টাকার হিসাব সে দিতে চায় না। সেই মিটিংয়ের পর নূর খুব উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিল।

অন্যদিকে ৩ জুলাই রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করেন নুরুল হক নূর। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে রেজা কিবরিয়া ইনসাফ কায়েমের মিটিংয়ে গিয়েছিলেন। আমরা নিষেধ করেছি, আপনি ওদের বৈঠকে বা মিটিংয়ে যাবেন না। তিনি আমাদের কথা রাখেননি। রেজা কিবরিয়া একজন উদ্ভট চরিত্রের লোক। দল পরিচালনায় আর্থিক জোগান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো ডোনারদের সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের তো ব্যবসায়ীরা টাকা দেবে না, আমাদের দল পরিচালিত হচ্ছে বখশিশের টাকায়। কেউ যদি আমাদের বখশিশ দিতে চায়, অবশ্যই আমরা তা নেব।

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে কোনো বৈঠক হয়নি বলে দাবি করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব। তার দাবি, তাদের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে। দল থেকে অপসারিত আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া মোসাদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে যা বলেছেন, তা অসত্য এবং অপপ্রচার।

তার পরের দিন ৪ জুলাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে চিঠি দেন রেজা কিবরিয়া। ইসিতে দেওয়া চিঠিতে নিজের বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে অবৈধ দাবি করেন ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি দলটির আহ্বায়ক দাবি করে ওই চিঠিতে তাকে বহিষ্কার প্রক্রিয়া এবং নুরুল হক নূর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ তদন্তের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে নুরুল হক নূরের দেওয়া তথ্য আমলে না নেওয়ার কথাও বলেন চিঠিতে।

এদিকে ৬ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদের একাংশ (রেজা কিবরিয়ার পক্ষ) সংবাদ সম্মেলনে আসে। সেখানে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান তিনি।

এতে বলা হয়, দলের আহ্বায়ক পদ থেকে রেজা কিবরিয়াকে অপসারণ সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনিই দলের আহ্বায়ক আছেন। তারা অভিযোগ করেন, রেজা কিবরিয়াকে বাদ দিয়ে ১০ জুলাই দলের কাউন্সিলের দিন নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে দলকে ভাঙনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

ফারুক হাসান বলেন, গত ১৮ জুন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নূরের কিছু অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ড. রেজা কিবরিয়ার বাসার ছাদে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি সভা হয়। সেখানে নুরুল হক নূর দলের সাংগঠনিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে ইনসাফ কায়েম কমিটির একটি সভায় অংশ নেওয়া ও তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এর জবাবে ড. রেজা কিবরিয়া ইনসাফ বাস্তবায়ন কমিটির সভায় যাওয়ার ব্যাখ্যা দেন।

তিনি আরও বলেন, তবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন এবং প্রমাণ থাকলে তা হাজির করতে বলেন। একই সময়ে তিনি নূরের বিরুদ্ধে কয়েকটি সুস্পষ্ট অভিযোগ আনেন। যার মধ্যে মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আলোচিত বৈঠকের সত্যতা সংক্রান্ত কিছু তথ্য, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে দলীয় তহবিল নিজে গ্রহণ ও হিসাব না দেওয়া এবং শিপন বসুসহ বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহভাজন লোকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ তোলেন।

ফারুক হাসান বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নূর কাতারে ইসরাইলি নাগরিক মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কোনো রকম আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে অস্বীকার করেন। বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও এ বৈঠকের আলোচ্যসূচি কী ছিল, তা তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের অবগত করতে অস্বীকৃতি জানান। এমতাবস্থায় নূর দলের বয়োবৃদ্ধ কয়েকজন সৎ ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক ও অশালীন ভাষা প্রয়োগ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ড. রেজা কিবরিয়া সভাস্থল ত্যাগ করেন এবং সভা মুলতবি হয়।

গত ১ জুলাই গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে তার সমর্থকেরা আহ্বায়কের পদ থেকে রেজা কিবরিয়াকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের পক্ষ থেকেই দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল।

এই অপসারণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দলটির অপর অংশ (রেজা কিবরিয়ার পক্ষ) গতকালের (৬ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে বলেছে, দলের আহ্বায়কের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ ও অপসারণ করতে হলে কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্যের দুই–তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১২১ জন সদস্যের মধ্যে অন্তত ৮১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। কিন্তু ১ জুলাইয়ের সভায় ৪৫ জন সদস্য উপস্থিত হয়। সভায় সদস্যরা গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণের আহ্বান জানালে তা না করে প্রকাশ্যে হাত তুলে সমর্থন জানাতে বলা হয়। ফলে অনেকেই ভোটদানে বিরত থাকেন।

অন্যদিকে নুরুল হক পালটা অভিযোগ করে বলেন, তাদের দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া অনেক দিন ধরে ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের নেতৃত্বাধীন ইনসাফ কায়েম কমিটির কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। সে জন্য তিনি অর্থ পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন নুরুল হক।

এদিকে দুই নেতার বিরোধ থেকে দলের দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অব্যাহতি, অনাস্থা প্রস্তাব, অপসারণের মতো ঘটনার মধ্যে দলের অনেককেই আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার পাশে দেখা যায়নি। তবে ৬ জুলাইর সংবাদ সম্মেলনে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান, সাদ্দাম হোসাইন, জাকারিয়া পলাশ, যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, তারেক রহমান, আবুল কালাম আজাদ ও আবু সাঈদসহ অনেক গুরুত্বর্পূণ নেতাকেই উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এই নেতারা দলটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম এবং দলেও তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির এসব নেতা এখন রেজা কিবরিয়ার পক্ষ নিয়েছেন। এর ফলে এখন রেজা কিবরিয়ার পাল্লাই ভারি বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে গণঅধিকার পরিষদ। পূর্ণাঙ্গ কমিটি হওয়ার আগেই এখন ভাঙনের পথে দলটি।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/