খুঁজুন
, ,

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনকে সামনে রেখে ঈদ পালন করবেন বিএনপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 28 June, 2023, 12:02 pm
সরকারের পদত্যাগ দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনকে সামনে রেখে ঈদ পালন করবেন বিএনপি

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলন সামনে রেখে এবার ঈদ উদযাপন করবেন বিএনপি নেতারা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে দলটির অনেক নেতা এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। স্থানীয় নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করবেন তারা। সেইসঙ্গে পৌঁছে দেবেন সরকার পতনে চূড়ান্ত আন্দোলনের বার্তা। দলের সিনিয়র নেতাদের কেউ কেউ ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় করেই রওনা দেবেন নিজ এলাকায়। বিশেষ করে যারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান, তাদের বেশিরভাগই এখন এলাকামুখী। ঈদ উৎসবের মধ্যেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক কাজকর্ম শেষ করে দ্রুতই ঢাকাই ফিরতে চান তারা।

দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী এখনো কারাগারে বন্দি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় অসুস্থ অবস্থায় গৃহান্তরিন। আমরা যারা বাইরে আছি, তারাও বৃহত্তর কারাগারেই আছি। সবার প্রতি আমার আহ্বান থাকবে—যেন সতর্কতার সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হয়ে উঠবে এবারের ঈদ। সামনে একদফা দাবিতে আন্দোলনের যে চূড়ান্ত কর্মসূচি আসবে, সেটা সর্বাত্মকভাবে সফল করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেবেন সংশ্লিষ্ট এলাকার কেন্দ্রীয় নেতারা। পাশাপাশি আগামীদিনের আন্দোলন কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ বাড়াতে চায় দলটির হাইকমান্ড। সেই লক্ষ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে দেশের চলমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো আন্দোলন করছে। অবৈধ শেখ হাসিনা সরকারকে হটাতে সামনে একদফা আন্দোলনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হয়ে উঠবে এবারের ঈদ। নেতাকর্মীদের সেই বার্তাই দেওয়া হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান  জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে পরিবার ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ঈদ উদযাপন করবেন। সেখানে খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী দুই মেয়েকে নিয়ে ঈদ পালন করবেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় ও বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত শেষে পরদিন ঢাকায় ফিরবেন। সেইসঙ্গে নিজ নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করার কথা রয়েছে তার।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন চিকিৎসার জন্য গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর গেছেন। মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকায় ঈদ করবেন। ড. আব্দুল মঈন খান নরসিংদীর পলাশে গ্রামের বাড়িতে ঈদের নামাজ আদায় শেষে ঢাকায় আসবেন। স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমেরিকায় ঈদুল আজহা পালন করবেন। সেখান থেকে লন্ডন অথবা লন্ডনে ঈদ উদযাপন শেষে আমেরিকা যাবেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে এবং চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থাকা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদেশেই কোরবানির ঈদ পালন করবেন।

ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত করবেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা। ঈদের দিন রাতেই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানাবেন বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদুসহ অনেকে ঢাকায় থাকবেন। ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, বরকতউল্লাহ বুলু নোয়াখালীতে, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোরে নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজধানীর আদাবরের বাসায়, বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার ঢাকায় ঈদ পালন করবেন। যুগ্ম মহাসচিবদের মধ্যে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল পরিবারসহ এরই মধ্যে বরিশালে নিজ গ্রামে গেছেন। সেখানে তিনি ঈদ উদযাপন করবেন। হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন পরিবার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঢাকায় ঈদ পালন করবেন। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ তার নির্বাচনী এলাকা নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে (আড়াইহাজার) পরিবার ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। তিনি বলেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করে আবার ঢাকা ফিরব।

ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, সদস্য সচিব মো. আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম ঢাকায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহে, আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ নিজ এলাকা মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মীর সরফত আলী সপু শ্রীনগরে, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন পটুয়াখালী, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল নিজ এলাকা জামালপুরের মেলান্দহে, তাবিথ আউয়াল ও প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ঢাকায় ঈদ করবেন।

জানা গেছে, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে, সদস্য সচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুরে নিজ এলাকায়, বিএনপির শিক্ষা সম্পাদক ও ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, মিডিয়া সেলের সদস্য ও ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন ও আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ঢাকায় থাকবেন। এ ছাড়া সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু নিজ এলাকা নাটোরে, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতা গোলাম সারোয়ার, ঝিনাইদহ-৪ আসনে (কালীগঞ্জ) স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, নেত্রকোনা-২ আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং এমপি প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক নেত্রকোনা-৩ (সদর), ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাবের সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সদস্য ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম তার নির্বাচনী এলাকা চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ), নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) সহসহভাপতি প্রকৌশলী মো. মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, সিআইপি, নরসিংদী-৫ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দীন বকুল নিজ নিজ আসনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নিজ নিজ এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে জানা গেছে।

দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, বর্তমান অবৈধ ভোট ডাকাত সরকারকে হটাতে আমাদের সামনে এখন আন্দোলন ছাড়া কিছুই নেই। আন্দোলনে বিজয়ী হয়ে দেশবাসীকে নিয়ে ঈদের আনন্দ করতে চাই। চূড়ান্ত আন্দোলন সফলের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/