খুঁজুন
, ,

কূটনীতিক পাড়ায় বাংলাদেশের রাজনীতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 31 May, 2023, 2:04 pm
কূটনীতিক পাড়ায় বাংলাদেশের রাজনীতি

দূতাবাসগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ যেমন বাড়ছে তেমনি দূতাবাসগুলো রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও  নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে। সরাসরি ও অনলাইন দুইভাবেই এই যোগাযোগ বাড়ছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদুতের সঙ্গে

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা একাধিক বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদুতের সঙ্গে

জানা গেছে, এই যোগোযোগের দিক দিয়ে অ্যামেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। যোগাযোগের মাধ্যমে দুই পক্ষই সর্বশেষ আপডেট এবং মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলো বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একই অবস্থানে আছে। মার্কিন ভিসা নীতির পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ২০২৬ সালের পর জি-প্লাস সুবিধা পেতে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের শর্তের কথা বলেছে। অন্য দিতে এশিয়ার কয়েকটি দেশ পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

মঙ্গলবার ইউরোপের একটি দেশের দূতাবাসের এক কর্মকর্তার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের প্রায় ঘন্টব্যাপী অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এ বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তার কথায় স্পষ্ট যে এবার নির্বাচনের পরিস্থিতি বুঝতে নির্বাচনী পর্যবেক্ষদের ওপর জোর দেওয়া হবে। তারা বাংলাদেশে নির্বাচনের আগেই কাজ শুরু করবেন। তার আগে দূতাবাসগুলো নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নিতে চাইছে। নতুন মার্কিন ভিসা নীতি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তাও জানতে চাইছে। বুঝতে চাইছে নির্বাচন কমিশন তা কতটা আমলে নেবে ।

‘বিএনপিকে ঠিক করতে হবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে কিনা’

গাজীপুর সিটি নির্বাচনের আগের দিন মার্কিন ভিসা নীতির ব্যাপারে টুইট করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিদেশি কূটনীতিকেরা মনে করেন, গাজীপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। তারা বাকি চারটি সিটি নির্বাচনের ব্যাপারেও আগ্রহী। গাজীপুর সিটি নির্বাচনের ফলের সঙ্গে ভিসা নীতির কোনো যোগসূত্র আছে, না তা কেবল কাকতালীয় তারা বোঝার চেষ্টা করছেন।

বাংলাভিশনের কন্টেন্ট পার্টনার ডয়চে ভেলের প্রতিনিধির সঙ্গে এশীয় একটি দেশের দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নির্বাচন সংক্রান্ত ঘটনাগুলো সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা বুঝতে চাইছেন পরিস্থিতি কোনদিকে যায়। সবারই একটি বিষয়ে আগ্রহ আর তা হলো রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশ এড়াতে পারবে কী না। আর বিএনপি বিদ্যমান কাঠামোতে নির্বাচনে অংশ নেবে কী না।

ঢাকায়  বিশিষ্ট নাগরিকদের একজন এরইমধ্যে অ্যামেরিকা ও ইউরোপের তিনটি দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, তিনটি দূতবাসের কর্মকর্তারাই প্রধানত এখন বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তারা বড় দুই রাজনৈতিক দল ছাড়াও আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠানিক আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আলাপে দুই পক্ষেরই আগ্রহ আছে।

মার্কিন ভিসা নীতি প্রকাশ্যে আসার পর দিন আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পর পিটার হাস পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করেন। দুইটি বৈঠকেই বিষয় ছিলো ভিসা নীতি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র এর লক্ষ্য  একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলে জানানো হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মো, হুমায়ুন কবির বলেন, “যোগাযোগের বিষয়টি তো প্রকাশ্যেই আমার দেখতে পাচ্ছি। ভিতরে নিশ্চয়ই এই যোগাযোগ আরো হচ্ছে। আমরা মনে হয় সামনে এই যোগাযোগ আরো বাড়বে। আমাদের অভ্যন্তরীণ বা নিজস্ব প্রক্রিয়া যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা সক্ষমতা হারায় তখনই এই ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটা কতটুকু কাজে আসবে জানি না তবে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে তারা চেষ্টা করছে।”

বাংলাদেশের বড় দুইটি রাজনৈতিক দলই ভিসা নীতিকে তাদের জন্য ভালো এবং প্রতিপক্ষের জন্য খারাপ বলে অভিহিত করছে। ফলে ভিসা নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে কারো কোনো অনুযোগ বা অভিযোগ নেই। এরইমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাকযুদ্ধের ধার কিছুটা হলেও স্তিমিত হয়ে এসেছে।

ভিসা নীতির পর বিএনপি নেতারা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না ধরনের কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বলছে, এই সরকারই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রধান বাধা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম  আলমগীর সোমবার বলেছেন, “আওয়ামী লীগ কয়দিন আগেও কত লাফালাফি করেছে, এখন লাফালাফি কমে এসেছে। এখন আমরা লড়াই করছি, লড়াই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। অগ্নি-সন্ত্রাস করবে তারা, দোষ দেবে আমাদের। তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে।”

আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেমবার বলেছেন, “কেরানীগঞ্জ এবং খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপানোর নাটক করেছে। এসবের মধ্য দিয়ে তারা ভুল বার্তা দিচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের বলব, আপনারা শান্ত ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন। আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু করব না।”

রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, “মার্কিন ভিসা নীতির পর এখন বিএনপির একটি বিষয় স্পষ্ট করতে হবে যে তারা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারই চায়, না এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে। সেটা স্পষ্ট না হলে পরবর্তী আরো অনেক বিষয় পরিষ্কার হবে না। আর সরকারকেও  অতীতের মত মিছিল সমাবেশে বাধা না দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।”

তার কথা,”গাজীপুরের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে না থাকার পরও ভোটার উপস্থিতি ভালো ছিলো। কিন্তু এটা যে জাতীয় নির্বাচনেও হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায়না। কারণ জাতীয় নির্বাচনে স্টেইক লেভেল অনেক হাই। জাতীয় নির্বাচনে অনেক ঘটনা ঘটতে পারে যা বিদেশিদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে। লোকাল অনেক বিষয় থাকে।”

তিনি বলেন, “এখানে নির্বাচনে জেতা মানে পুরোপুরি জেতা। হারা মানে পুরোপুরি হারা। তাই নির্বাচনে না জিতলে মার্কিন ভিসা দিয়ে কী হবে। ফলে এই কয়েকদিনে যে একটু স্বস্তি তা কতটা থাকবে তা এখনই বলা যায় না।”

তিনি মনে করেন, “এখন নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিতে যে প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য কূটনীতি চলছে তার ফল এখনই বোঝা যাবে না। বিএনপি এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে এলে হয়তো ছাড় দেবে সরকার। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনঢ় থাকলে ভিসা নীতির চাপ তেমন ফল দেবে বলে মনে হয় না।”

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/