তিন নম্বরে মুমিনুল তিনে, বিপাকে অস্ট্রেলিয়ার লাবুশেন
ক্রিকেটে ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর জায়গাটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। ওপেনারদের পরই ক্রিজে আসতে হয় এই পজিশনের ব্যাটসম্যান জনকে। নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলানোর পাশাপাশি দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে পুরো ইনিংসের দায়িত্বও নিতে হয় তাকে।
ডন ব্র্যাডম্যান, ভিভ রিচার্ডস, রিকি পন্টিং, রাহুল দ্রাবিড় ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো কিংবদন্তিদের ক্যারিয়ারেও তিন নম্বর পজিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বর্তমান ক্রিকেটেও জায়গাটির গুরুত্ব কমেনি।
সাম্প্রতিক তিন বছরের টেস্ট পরিসংখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের মুমিনুল হকের জন্য বেশ ইতিবাচক একটি চিত্র তুলে ধরছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তিন নম্বরে ব্যাট করা খেলোয়াড়দের মধ্যে রানসংখ্যায় তিনি রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে।
এই সময়ে ১৫ টেস্টের ২৬ ইনিংসে তিন নম্বরে ব্যাট করে মুমিনুলের সংগ্রহ ৯৭৯ রান। ব্যাটিং গড় ৪০.৭৯। তার ব্যাট থেকে এসেছে একটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফসেঞ্চুরি। অর্থাৎ ২৬ ইনিংসের মধ্যে নয়বারই তিনি পঞ্চাশের ঘর পেরিয়েছেন।
এই তালিকায় মুমিনুলের ওপরে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অলি পোপ ও নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন। পোপ ৩৮ ইনিংসে করেছেন ১ হাজার ৩৬৯ রান, সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি। উইলিয়ামসন ৩০ ইনিংসে করেছেন ১ হাজার ৩৬০ রান, যেখানে সেঞ্চুরি পাঁচটি এবং হাফসেঞ্চুরি দুটি।
তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসের সংখ্যায় মুমিনুল দুজনের চেয়েই এগিয়ে। তাঁর পিছিয়ে থাকার মূল কারণ, বেশ কয়েকটি ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে না পারা।
অন্যদিকে তিন নম্বর পজিশনে অস্ট্রেলিয়ার মারনাস লাবুশেনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত তিন বছরে এই পজিশনে ৪৩ ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং গড় মাত্র ২৪.৬৯। অন্তত ২০ ইনিংস খেলেছেন—এমন ৫৬ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তাঁর চেয়ে কম গড় রয়েছে মাত্র তিনজনের।
আরও একটি পরিসংখ্যান লাবুশেনের দুর্দশাকে স্পষ্ট করে। গত তিন বছরে তিন নম্বরে ব্যাট করা শীর্ষ ১০ ব্যাটসম্যানের মধ্যে তিনিই একমাত্র, যাঁর কোনো সেঞ্চুরি নেই।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজেও তিন নম্বরে ব্যাট করে লাবুশেনের ইনিংসগুলো ছিল ১, ৩১ ও ৪ রানের। তাঁর এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মত ছিল, তিন নম্বর জায়গাটির জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিকল্প ভাবা উচিত।
তবে আপাতত নির্বাচকেরা লাবুশেনের ওপরই আস্থা রেখেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের তিন টেস্টের দলে রাখা হয়েছে তাঁকে। ২০১৮ সালের বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।
এমন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে তিন নম্বরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় নতুন কাউকে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ লাবুশেনকেই সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এখন সেই আস্থার প্রতিদান ব্যাট হাতে দিতে পারবেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।
ইতি/

আপনার মতামত লিখুন