খুঁজুন
, ,

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশাহারা মানুষ 

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 6 October, 2023, 2:43 am
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশাহারা মানুষ 
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে দিশাহারা হয়ে পড়েছে মানুষ। বাধ্য হয়ে অনেকে মৌলিক খাবারেও ছুরি চালিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তাকে সামান্য স্বস্তি দিতে গেল ১৪ সেপ্টেম্বর আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, ডিম ও চিনির দাম বেঁধে দেয় সরকার। এরপর তিন সপ্তাহ পার হলেও বাজারে তার কার্যকারিতা মেলেনি। বরং কয়েকটি পণ্যের দাম আগের চেয়ে আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে সরকারি সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা করার কোনো প্রয়োজনও বোধ করছেন না ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল বাজার এবং হজক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধা বাজারে এ চিত্র দেখা গেছে। পাশাপাশি সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও বেশি দামের তথ্য উঠে এসেছে। নির্ধারিত দর অনুযায়ী প্রতি কেজি আলু খুচরা বাজারে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৪ টাকা বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকদের কাছ থেকে ৭ থেকে ৮ টাকায় কেনা আলু হিমাগারে সংরক্ষণসহ ব্যয় হয় ১৪ থেকে ১৫ টাকা। সরকার
হিমাগারে আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে ২৬ টাকা। তবে এখানেও মানা হয় না সরকারি দাম। হিমাগার থেকে আলু বিক্রি হয় ৩৬ থেকে ৩৬ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী জসিম বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেটা আমরা জানি। আমরাও চাই সরকারের দামে বিক্রি হোক। আমরাও তো কিনে খাই। কিন্তু পাইকারি বাজারে না কমলে আমরা খুচরায় কম দামে বিক্রি করতে পারমু না। সরকারের উচিত যেখান থেকে দাম বাড়ে সেখানে আগে কমানো তা হলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারমু। প্রতি হালি ডিমের দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৮ টাকা, যা বাজার দরের চেয়ে সামান্য কম। সেই দরও কার্যকর হয়নি। গতকাল প্রতি হালি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
মাঝে কিছুটা কমলেও ফের বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। সরকার নির্ধারিত মূল্য ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ২৫ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৯ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৪৯ থেকে ১৫৪ টাকা এবং প্রতি কেজি পাম অয়েল বিক্রি হবে ১২৪ থেকে ১২৮ টাকায়। টিসিবির তথ্যমতে বৃহস্পতিবার বাজারে খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৬৯ থেকে ১৭০ টাকা এবং পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। সরেজমিন আরও দুই থেকে তিন টাকা বেশি দর পাওয়া গেছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার ১৭৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
খোলা চিনির নির্ধারিত মূল্য ১২০ টাকা এবং প্যাকেজজাত চিনির মূল্য ১৩৫ টাকা। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বাজারে চিনি বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্রতি কেজি চিনি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, দাম নির্ধারণ করে দিয়ে লাভ কি যদি না বাজারে কার্যকর হয়। গত তিন সপ্তাহ ধরেই শুনছি সরকার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে দাম কমবে। কোনো পণ্যের দামই তো কমল না। উল্টো দাম আরও বাড়ছে। যেখানে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন ‘সিন্ডিকেট ভাঙা যাবে না’ দেখানে দাম কমবে কী করে?
যতক্ষণ অভিযান ততক্ষণ দাম কম
বাজারে নির্ধারিত দাম কার্যকরে অভিযান অব্যাহত রেখেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ‘ইদুর বিড়াল খেলা’ চলছে। বাজারে যখন ভোক্তা অধিকারের অভিযান চলে তখন দাম কম থাকে। অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বের দামে ফিরে যান ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে মূল্য বেঁধে দিয়েছে সে দর কার্যকর করতে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। অভিযানে নির্ধারিত দাম না পেলে জরিমানা করা হচ্ছে। শুধু খুচরা বাজারে নয়, যেখান থেকে দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে সেখানেও যাচ্ছি। হিমাগারেও অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের জনবল ঘাটতি আছে। এরপরও আমরা চেষ্টা করছি। দাম কমে আসবে বলে আশা রাখছি।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, উৎপাদক, আমদানিকারক, গুদাম ও পাইকারিতে দাম কার্যকর করতে না পারলে খুচরাতে দাম কমবে না। এ জন্য সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করতে হবে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান সময়ের আলোকে বলেন, দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভালো ছিল। তবে এতদিনেও কার্যকর করতে না পারাটা ভালো লক্ষণ নয়। খুচরায় অভিযান চালিয়ে কোনো লাভ হবে না। উৎপাদনস্থলে গিয়ে অভিযান চালাতে হবে। খুচরায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলে ব্যবসায়ীরা পরে জরিমানার টাকা ক্রেতাদের কাছ থেকে উসুল করে নেন। এতে ভোক্তাদের আরও ক্ষতি হয়।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/