খুঁজুন
, ,

দখল দুর্নীতির অভিযোগ আওয়ামী লীগের  ১২০ এমপির তালিকা দুদকে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 12 September, 2023, 6:29 am
দখল দুর্নীতির অভিযোগ আওয়ামী লীগের  ১২০ এমপির তালিকা দুদকে
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের খোঁজখবর নিতে ১২০ এমপির তালিকা এখন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ইতিমধ্যে তিনটি জরিপের রিপোর্ট হাতে পেয়েছেন। ওই জরিপে ১২০ এমপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এতে করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফলে ১২০ এমপির বিরুদ্ধে উঠে আসা রিপোর্ট সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার জন্য তাদের তালিকা দুদকে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র বলছে, ১২০ এমপির বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারী, অর্থনৈতিক অনিয়ম, জমি দখল, সরকারি সম্পত্তি দখল, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ জরিপে উঠে এসেছে। সংগত কারণে তাদের বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিতে দুদকে এসব এমপির নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আওয়ামী লীগ মনে করে, টানা তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় থাকায় দলের অনেক এমপিই দলীয় শৃঙ্খলার কথা ভুলে গেছেন। সম্প্রতি এমপি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরাও কেউ কেউ টাকার মালিক বনে গেছেন। তারা কেন এত টাকার মালিক হলেন, তাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা দলকে পাত্তা না দিয়ে নিজেকে হিরো হিসেবে নিয়েছেন। তারা মানছেন না দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনাও। ইতিমধ্যে একাধিক সংস্থার মাধ্যমে জরিপ করেছেন শেখ হাসিনা। এসব জরিপে এমপি, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের এলাকায় অবস্থান, নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, দলের ত্যাগী ও পোড় খাওয়া নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন না করা, এমপি-মন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বলয় তৈরি করাসহ নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য সময়ের আলোকে বলেন, ১২০ এমপির একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও মালিকানাধীন জমি দখল, কেউ কেউ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোটি কোটি টাকার মালিকসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের মধ্যে শুধু এমপিই নন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা আছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য ও সম্পাদকমণ্ডলীর দুই সদস্য  বলেন, ১২০ এমপির একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে বলে আমরা শুনেছি। তবে তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ও মালিকানাধীন জমি দখল, কেউ কেউ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোটি কোটি টাকার মালিকসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের মধ্যে শুধু এমপিই নন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা আছেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম  বলেন, জমি দখল, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এমন ১২০ এমপির বিরুদ্ধে দুদকে তালিকা পাঠানো হয়েছে কি না এমন খবর আমার জানা নেই। আর যদি পাঠানো হয়েও থাকে, সেখানে আমার নাম নেই, এটা আমি বলতে পারি।
জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর গণভবনে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ১৪ দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনেকের আমলনামা আমার কাছে এসেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জনকে বাদ দেওয়ার চিন্তা করছি। এদের মধ্যে কারও কারও বিরুদ্ধে নানা নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাদেরকে এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও রয়েছেন। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দফতর, উপ-দফতর, প্রচার, উপ-প্রচার সম্পাদকদের সঙ্গে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় নেতাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন সামনে রেখে দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে সংগঠন শক্তিশালী করারও তাগিদ দেন। এ বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে শতাধিক এমপি বাদ পড়বে। তাই তাদেরকে যার যার নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
গত ২ সেপ্টেম্বর গণভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলের অন্যতম এক নেতা সময়ের আলোকে বলেন, বৈঠকের এক ফাঁকে জোট নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শুধু ১৪ দলেরই নয়, আওয়ামী লীগেরও অনেক পোড় খাওয়া ও ত্যাগি নেতারা কিছুই পাননি, তাদের বিষয়ে চিন্তা করছি। বর্তমানে প্রায় ১২০ এমপির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীও রয়েছেন। তাদের লিস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/