খুঁজুন
, ,

ড. ইউনূসের পক্ষে বিশ্বনেতাদের দেওয়া চিঠির বিপক্ষে ৫০ সম্পাদকের বিবৃতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 2 September, 2023, 4:58 pm
ড. ইউনূসের পক্ষে বিশ্বনেতাদের দেওয়া চিঠির বিপক্ষে ৫০ সম্পাদকের বিবৃতি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিচার প্রক্রিয়া স্থগিতের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে খোলা চিঠি দেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৬০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এর প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের ৫০টি পত্রিকার সম্পাদক।

আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট কয়েকজন নোবেল বিজয়ী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী এবং সুশীল সমাজের সম্মানিত সদস্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া একটি খোলা চিঠিতে শ্রম আইনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে চলমান মামলা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি সার্বভৌম দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ, আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৪(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। এ ধরনের চিঠি প্রদানের মাধ্যমে তারা অনৈতিক, বেআইনি ও অসাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর হস্তক্ষেপ করেছেন বলে আমরা মনে করি। এ ধরনের বিবৃতি বা খোলা চিঠি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশের আইনে শ্রমিকদের প্রদত্ত অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলীর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত এবং নোবেল বিজয়ীদের এ ধরনের বিবৃতি এবং চিঠি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অনৈতিক। একজন অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না এবং বিচার করা যাবে না এমন দাবি ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। আমরা মনে করি তারা মামলা সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে এমন দাবি করেছেন। তাই আমরা তাদের অথবা তাদের প্রতিনিধি এসে মামলায় ড. ইউনূসকে আদৌ হয়রানি করা হচ্ছে কী না, তা তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের এই আহ্বান জানিয়েছেন আমরা তা সমর্থন করি।

একই চিঠিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, তা স্বাধীন-সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ যে কোনো মহলের এ ধরনের অবমাননাকর, অযাচিত ও বেআইনি হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে সম্মান প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন: 

১। ইকবাল সোবাহান চৌধুরী, সম্পাদক, ডেইলি অবজারভার
২। গোলাম রহমান, সম্পাদক, আজকের পত্রিকা
৩। তাসমিমা হোসেন, সম্পাদক, ইত্তেফাক
৪। আবুল কালাম আজাদ, প্রধান সম্পাদক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা
৫। ইমদাদুল হক মিলন, প্রধান সম্পাদক, কালের কণ্ঠ
৬। আলমগীর হোসেন, সম্পাদক, সমকাল
৭। সাইফুল আলম, সম্পাদক, যুগান্তর
৮। নঈম নিজাম, সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন
৯। ফরিদ হোসেন, সম্পাদক, ইউএনবি
১০। শ্যামল দত্ত, সম্পাদক, ভোরের কাগজ
১১। নাঈমুল ইসলাম খান, ইমিরিটাস এডিটর
১২। আলতামাশ কবির, সম্পাদক, সংবাদ
১৩। আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, সম্পাদক, পিপলস টাইম
১৪। রেজাউল করিম লোটাস, সম্পাদক, ডেইলি সান
১৫। শাহজাহান সরদার, সম্পাদক, বাংলাদেশ জার্নাল
১৬. নাসিমা খান মন্টি, সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়
১৭। রফিকুল ইসলাম রতন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বাংলাদেশ বুলেটিন
১৮। ফারুক আহমেদ তালুকদার, সম্পাদক, আজকালের খবর
১৯। সন্তোষ শর্মা, সম্পাদক, কালবেলা
২০। শরীফ শাহাবুদ্দিন, সম্পাদক, বাংলাদেশ পোস্ট
২১। শামীমা এ খান, সম্পাদক, জনকণ্ঠ
২২। কমলেশ রায়, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সময়ের আলো
২৩। মুস্তাফিজ শফি, সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ
২৪। মোস্তফা মামুন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দেশ রূপান্তর
২৫। বেলায়েত হোসেন, সম্পাদক, ভোরের ডাক
২৬। চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক বাংলা
২৭। শামীম সিদ্দিকি, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, আলোকিত বাংলাদেশ
২৮। আব্দুল মজিদ, সম্পাদক, সংবাদ সারাবেলা
২৯। রিমন মাহফুজ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, সংবাদ প্রতিদিন
৩০। মফিজুর রহমান খান বাবু, সম্পাদক, বাংলাদেশের আলো
৩১। আরিফুর রহমান দোলন, সম্পাদক, ঢাকা টাইমস
৩২। নুর হাকিম, সম্পাদক, সকালের সময়
৩৩। মো. জসিম, সম্পাদক, আমার বার্তা
৩৪। আখলাকুল আম্বিয়া, সম্পাদক, স্বাধীন বাংলা
৩৫। এস এম নূরে আলম সিদ্দিকী, সম্পাদক, আজকের দর্পণ
৩৬। ফরিদ বাঙ্গালী, সম্পাদক, লাখো কণ্ঠ
৩৭। ড. আসাদুজ্জামান, সম্পাদক, বাংলাদেশ সমাচার
৩৮। কিশোর আদিত্য, সম্পাদক, প্রথম কথা
৩৯। দীপক আচার্য্য, সম্পাদক, দ্য সাউথ এশিয়ান টাইমস
৪০। আবু সাঈদ, সম্পাদক, আজকের সংবাদ
৪১। আতিকুর রহমান চৌধুরী, সম্পাদক, দর্পণ প্রতিদিন
৪২। রফিকুল ইসলাম, সম্পাদক, আলোর বার্তা
৪৩। মো. সেলিম, সম্পাদক, ডেইলি ইভিনিং নিউজ
৪৪। মোস্তফা হোসেন চৌধুরী, সম্পাদক, অগ্রসর
৪৫। নাজমুল হক সরকার, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, বর্তমান
৪৬। শাহাদাত হোসেন শাহীন, সম্পাদক, গণমুক্তি
৪৭। মো. সাইদুল ইসলাম, সম্পাদক, প্রতিদিনের সংবাদ
৪৮। নাজমুল আলম তৌফিক, সম্পাদক, ডেইলি সিটিজেন টাইমস
৪৯। হেমায়েত হোসেন, সম্পাদক, কান্ট্রি টুডে
৫০। শেখ জামাল, সম্পাদক, মুখপাত্র

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/