খুঁজুন
, ,

বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে বিদেশি মিডিয়া যা বলছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 30 July, 2023, 9:44 am
বিএনপির কর্মসূচিতে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে বিদেশি মিডিয়া যা বলছে

ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী ঢাকার প্রধান প্রধান প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে এ ঘটনা ঘটে শনিবার। পুলিশ বলেছে, এ সময়ে বিএনপির সমর্থকরা বাসে আগুন দিয়েছে এবং পেট্রোল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। বিএনপির দাবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং আগামী নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। দুর্নীতির অভিযোগে দলটির নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ২০১৮ সালে জেল দেয়ার পর গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। এর মধ্যে শুক্রবারের বিক্ষোভে অংশ নেন লাখো জনতা। বিএনপির বিক্ষোভ নিয়ে এসব কথা লিখেছে বিদেশি মিডিয়া। এর মধ্যে আছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, আল জাজিরা, আনাদোলু।

আল জাজিরা লিখেছে- বিএনপি শনিবার বলেছে, তাদের কয়েক ডজন সমর্থন আহত হয়েছেন এদিন। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, তাদের কমপক্ষে ২০ সদস্য সংঘর্ষে আহত হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওদিকে বিএনপির দু’জন সিনিয়র নেতাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশের ভূমিকাকে অন্যায় বলে এর নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র নেতা আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, শনিবার যে অভিযান চালানো হয়েছে তাতে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব নিশ্চিতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তারা যে আগামী নির্বাচন জালিয়াতির সঙ্গে করতে চায় সেই উদ্দেশ্যই পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, জনগণের সমাবেশ করার যে মৌলিক অধিকার তা খর্ব করছে পুলিশ।

অন্যদিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ফারুক আহমেদ বলেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা শুধু যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদেরকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে হয়েছে। টিভি ফুটেজে দেখা গেছে রাজপথে বিক্ষোভকারীদের প্রহার করতে লাঠি ব্যবহার করছে পুলিশ।

ঢাকা থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক জানিয়েছেন, রাজপথে উত্তেজনা ছিল তীব্র। নাগরিকরা আরও সহিংসতার ভয়ে আতঙ্কিত। আজ রোববার পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে সোমবার আরও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিরোধী দল। গরপড়তা মানুষের জন্য খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাদের সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ জন্য জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কারচুপির প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন।

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে সরকারের দমনপীড়নের সমালোচনা করেছে পশ্চিমা দেশগুলো ও অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। অ্যামনেস্টি ইনটারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক ক্যাম্পেইনার ইয়াসাসমিন কাভিরত্নে এ মাসের শুরুতে বলেছেন, বাংলাদেশে উত্তেজনা যেভাব বাড়ছে তা এলার্মিং। জনগণকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করতে এবং ভিন্ন মত প্রকাশ করার অনুমতি দেয়া উচিত। তাদের কণ্ঠকে চেপে ধরে সরকার এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশের ভিতর ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সহ্য করা হবে না। তিনি পুলিশকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের এমপি তানভীর শাকিল জয়। তিনি বলেছেন, বিএনপি এবং এর সঙ্গে থাকা মিত্র দলগুলো কমপক্ষে সাতটি বাসে আগুন দিয়েছে। মহাসড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেছে। তারপরই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। কারণ, জনগণের চলাচলের অধিকার লঙ্ঘনের অধিকার নেই কোনো রাজনৈতিক দলের।

অন্যদিকে আনাদোলু লিখেছে, শনিবার প্রধান বিরোধী দল দাবি করেছে পুলিশ তাদের কমপক্ষে একশত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত করেছে অনেককে। তাদের দিকে ছোড়া হয়েছে বুলেট। পুলিশের একটি ও তিনটি বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি প্রাইভেট কার ভাঙচুর করা হয়েছে। এর জন্য ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধীরা একে অন্যকে দায়ী করছে। এতে আরও বলা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করছে বিএনপি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও এবং টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বিক্ষোভে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে লাঠিপেটা করছে পুলিশ। তারপর তাকে আটক করেছে। পরে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বলেছে, জনগণের সম্পত্তি ক্ষতি এবং পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার কারণে কমপক্ষে ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। তারা বলেছে, দেশজুড়ে তাদের ২০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত দুটি নির্বাচন ব্যাপক জালিয়াতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। বৃহস্পতিবার মার্কিন কংগ্রেসের ১৪ জন কংগ্রেসম্যান জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কাছে চিঠি লিখেছেন। তাতে জাতিসংঘের অধীনে এবং নির্দলীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে একে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ সরকার।

ওদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী ঢাকার বড় বড় সড়কে অবরোধ সৃষ্টিকালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে পুলিশের। অবরোধ সৃষ্টিকারীদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং আগামী নির্বাচন একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার দাবিতে গত বছর থেকে লাগাতর আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার ছিল ওই অবরোধ বা অবস্থান কর্মসূচি। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে এদিন অবস্থান নেন বিপুল পরিমাণ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মী। তাদেরকে সরিয়ে দিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় সংঘর্ষ হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ফারুক আহমেদ বলেছেন, তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। চারটি পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

এএফপি আরও লিখেছে ধোলাইখালে অবস্থান করছিলেন তাদের সাংবাদিকরা। এ সময় তারা প্রত্যক্ষ করেছেন দাঙ্গা পুলিশ এবং তাদের যানবাহনে পাল্টা জবাব হিসেবে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন বিক্ষোভকারীরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পুলিশ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া বলেছেন, ৬ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আমানুল্লাহ আমানকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। শনিবারের কর্মসূচিতে রাজধানীর সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অংশের পরিবহন যোগাযোগ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। এদিন বাস ট্রাক আটকা পড়ে বিভিন্ন স্থানে। বছরের শুরু থেকেই বিএনপির প্রতিবাদ বিক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ মাসে তাদের বিক্ষোভে লাখো মানুষ যোগ দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ বিরোধী দলের কমপক্ষে ৫০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে এ সপ্তাহে।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:15 pm
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল, কার্যকর সোমবার থেকে

দেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের খুচরা বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা।

 

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে মূল্য সমন্বয়

 

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থ বিবেচনায় দেশে একই হারে দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভাগটি।

 

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারের দরে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে বিপিসির লোকসান হচ্ছিল প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

জ্বালানি বিভাগের হিসাব বলছে, নতুন মূল্য সমন্বয়ের ফলে বিপিসির বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

 

পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাবের শঙ্কা

 

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন, কৃষি, সেচ এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

তবে নতুন দাম কার্যকরের পর পরিবহন ভাড়া কিংবা পণ্যমূল্য কতটা বাড়বে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

নতুন দাম একনজরে

 

– ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার

– কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার

– পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার

– অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার

ইতি।

অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Monday, 21 September, 2026, 12:03 pm
অপ্রতীম হত্যা: আদালতে দায় স্বীকার তিন আসামির, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসান। মামলার অপর আসামি মো. সিয়াম জবানবন্দি দেননি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের ক্ষেত্রে শিশু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

 

আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার অভিযোগ

 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মায়ের ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফোনটি নেওয়ার সময় বাধা দিলে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজের পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি তার বাসার খাটের তোশকের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

যেভাবে উদ্ধার হয় অপ্রতীমের মরদেহ

 

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার গন্ধমতীতে ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরদিন শনিবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার এ ঘটনায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, উদ্ধার করা আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইতি/

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: Saturday, 19 September, 2026, 6:23 pm
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকলে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন বেতনকাঠামোয়। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন সরকারি চাকরিজীবী সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

 

অর্থাৎ, কোনো সরকারি চাকরিজীবীর দুই সন্তান বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হলে তিনি মাসে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকা ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও ভাতা দেওয়া হবে সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য।

 

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সরকারি বেতনকাঠামোসংক্রান্ত গেজেটে এ সুবিধার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভাতা চালুর উদ্যোগ এবারই প্রথম।

 

গেজেটের বিধান অনুযায়ী, একই সন্তানের জন্য একাধিক সরকারি ভাতা একসঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ভাতার অর্থ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের মা অথবা বাবার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবেন।

 

নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন পরিবারের সঠিক সংখ্যা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

 

এ সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের সমন্বিত বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার (আইবাস++)-এ প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

ভাতা দেওয়ার আগে সন্তানের প্রতিবন্ধিতা বা বিশেষ চাহিদার বিষয়টি যাচাই করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী যে মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে কর্মরত, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানানো হচ্ছিল। নতুন এ সুবিধার মাধ্যমে এসব পরিবারের চিকিৎসা, শিক্ষা, থেরাপি ও পরিচর্যার ব্যয়ে কিছুটা সহায়তা মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

তবে ভাতা পেতে কী ধরনের সনদ প্রয়োজন হবে, যোগ্যতা যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট শর্ত কী এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিধি ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ইতি/