Bortoman Somoy  |
Bortoman Somoy |

পিরোজপুরে পুলিশ সদস্যের স্ত্রী হত্যা, তাঁতী দল নেতা গ্রেপ্তার।

AP Tuesday, 6 October 2026 · 12:48 pm

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রী জেসমিন বেগমকে (৪৮) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দিবাগত রাতে মাদারীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানিক হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৮)। বরিশালের এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান মিঠু সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার মানিক হাওলাদার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা।

বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার

রোববার সকালে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে জেসমিন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার রাতে জেসমিন বাড়িতে একাই ছিলেন। সকালে স্বজনেরা বাড়ির পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, আলমারি ও ওয়ারড্রবসহ বিভিন্ন মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তারা। একপর্যায়ে একটি কক্ষ থেকে জেসমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জেসমিন একই গ্রামের মৃত আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য কেরামত আলীর স্ত্রী। কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

নিহতের ভাই নাজির হোসেনের অভিযোগ, তাঁর বোনকে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মানিক হাওলাদারের কাছে জেসমিনের প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা ছিল। হত্যার পর ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মানিক হাওলাদারের সঙ্গে জেসমিনের একসময় ঘনিষ্ঠতা ছিল। তবে পাওনা টাকা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল।

জেসমিনের মেয়ে কাকন মনি মায়ের হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তাঁর মাকে যারা ধর্ষণ ও নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

এ ঘটনায় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান। মানিক হাওলাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ধর্ষণের অভিযোগসহ পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও অভিযোগগুলোর আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

সম্পাদকঃ মোঃ শাহ আলম সিকদার
উৎস: https://bortomansomoy.com/24691
প্রিন্ট করুন